ব্রাজিলের সাও পাওলো রাজ্যে ভারী বন্যা ও ভূমিধ্বসে এখন পর্যন্ত ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বন্যার ফলে বেশ কয়েকটি শহরে বার্ষিক কার্নিভাল উৎসব স্থগিত করা হয়েছে।
সোমবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার (১৯ ফেব্রুয়ারি) কিছু কিছু এলাকায় ৬০০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা এই সময়ে সাধারণ বৃষ্টিপাতের দ্বিগুণ।
ভিডিওতে দেখা গেছে, বিভিন্ন এলাকা পানির নিচে ডুবে গেছে, মোটরওয়ে প্লাবিত হয়ে গেছে এবং ঘরবাড়ি ভেসে গেছে।
উদ্ধারকারী দলগুলো বেঁচে যাওয়া লোকদের কাছে পৌঁছাতে এবং রাস্তাঘাট পরিষ্কার করতে হিমশিম খাচ্ছে।
বিপর্যস্ত সাও সেবাস্তিয়াও শহরের মেয়র ফেলিপ অগাস্টো জানান, অনুসন্ধান এবং উদ্ধারকারী দলগুলো বেশ কিছু জায়গায় পৌঁছাতে পারছে না। পরিস্থিতি খুবই বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েছে।
তিনি আরও জানান, শহরে কয়েক ডজন মানুষ নিখোঁজ হয়েছে এবং প্রায় ৫০টি বাড়িঘর ধসে পড়ার পর ভেসে গেছে।
রাজ্য সরকার সাও সেবাস্তিয়াওতে ৩৫ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে। অন্যদিকে উবাতুবায় এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে শহরটির মেয়র। বন্যার ফলে বাস্তুচ্যুত ও উচ্ছেদ হয়েছে শত শত মানুষ।
রাজ্যের মোট ছয়টি শহরে ১৮০ দিনের বিপর্যয় ঘোষণা করা হয়েছে। এগুলো হলো সাও সেবাস্তিয়াও, কারাগুয়াটাতুবা, ইলহাবেলা, উবাতুবা, গুয়ারুজা এবং বার্টিওগা।
এদিকে, বন্যার কারণে দেশটির উত্তর উপকূলরেখা জুড়ে কার্নিভাল উৎসব বাতিল করা হয়েছে। বড় শহরগুলোতে রাস্তার পাশের উত্সব এড়াতে ধনী পর্যটকদের জন্য একটি জনপ্রিয় গন্তব্য ওই এলাকা।
খ্রিস্টান উৎসব লেন্টের আগে পাঁচদিন ধরে ব্রাজিলে কার্নিভাল উৎসব চলে। নানান রঙে বর্ণিল এই উৎসব ব্রাজিলের সাথে সমার্থক।
প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা বর্তমানে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য বাহিয়ায় কার্নিভাল কাটাচ্ছেন। সোমবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করার কথা জানিয়েছেন তিনি।
টুইটারে একটি পোস্টে তিনি যারা প্রিয়জনদের হারিয়েছেন তাদের প্রতি তার সমবেদনা পাঠিয়েছেন। স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, নিখোঁজদের সন্ধান এবং পরিবহন ও যোগাযোগ অবকাঠামো পুনরুদ্ধার করার জন্য সরকারী কর্তৃপক্ষকে একত্রিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আরও ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা জরুরী দলগুলোর জন্য পরিস্থিতি আরও খারাপ করে তুলতে পারে।
একাত্তর/এসজে