আবারও মিসাইল ছুঁড়লো উত্তর কোরিয়া

নিজেদের পূর্ব উপকূল থেকে আরও দুইটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে উত্তর কোরিয়া। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে ‘ফায়ারিং রেঞ্জে’ পরিণত করার হুমকির পর এই উৎক্ষেপণ চালালো তারা। 

সোমবার (২০ ফেব্রুয়ারি) উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, এটি একটি মাল্টিপল রকেট লঞ্চার থেকে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর লক্ষ্যবস্তু ছিল যথাক্রমে ৩৯৫ কিলোমিটার ও ৩৩৭ কিলোমিটার দূরে।

রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, ৬০০ মিলিমিটার মাল্টিপল রকেট লঞ্চারটি কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রের একটি মাধ্যম, যা শত্রুর এয়ারফিল্ডকে 'পঙ্গু করে দিতে' সক্ষম। 

দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ মহড়ার পর উত্তর কোরিয়ার নেতা কিমের বোন কিম ইয়ো জং মার্কিন কৌশলগত সামরিক সম্পদের বর্ধিত উপস্থিতির বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘প্রশান্ত মহাসাগরকে আমাদের ফায়ারিং রেঞ্জ হিসাবে ব্যবহার করা নির্ভর করে মার্কিন বাহিনীর কর্মকাণ্ডের চরিত্রের ওপর’। 

উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ কোরিয়া এই সপ্তাহে আমেরিকান পারমাণবিক সম্পদের ক্রিয়াকলাপকে উন্নত করার লক্ষ্যে সিমুলেটেড পারমাণবিক টেবিলটপ অনুশীলনের পাশাপাশি মার্চ মাসে বার্ষিক বসন্তকালীন ফ্রিডম শিল্ড ফিল্ড প্রশিক্ষণের জন্য প্রস্তুত।

জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুটি ক্ষেপণাস্ত্র স্থানীয় সময় রাত ১০টায় উৎক্ষেপণ করা হয়। ক্ষেপণাস্ত্র দুটি প্রায় ১০০ কিলোমিটার এবং ৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় পৌঁছে এবং জাপানের অর্থনৈতিক অঞ্চলের এর বাইরে পড়ে।

উত্তর কোরিয়া জাপানের পশ্চিম উপকূল থেকে সমুদ্রে একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার মাত্র দুই দিন পরেই আবারও এই উৎক্ষেপণ চালানো হলো। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে এবং জাপানের সাথে পৃথকভাবে যৌথ বিমান অনুশীলন করার জন্য প্ররোচিত করেছিল ওই আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র।

আরও পড়ুন: ব্রাজিলে বন্যা ও ভূমিধ্বসে ৩৬ মৃত্যু, কার্নিভাল স্থগিত

জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা বলেছেন, তিনি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকের জন্য অনুরোধ করেছেন। বৈঠকটি সোমবার রাত আটটায় অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে জিজি নিউজ এজেন্সি। 

তবে ইউক্রেন সংকট এবং আমেরিকার আকাশে পাওয়া চীনা বেলুন নিয়ে চীন-মার্কিন দ্বন্দ্বের মধ্যে রাশিয়া ও চীনের পূর্ববর্তী ভেটোর কারণে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নতুন নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে মনে হচ্ছে।


একাত্তর/এসজে