কোথায় সেই কৈলাস, কে এই নিত্যানন্দ?

ভগবান রজনীশ থেকে শুরু করে রাম রহিম। ভারতে এমন সব ধর্মগুরু নিয়ে প্রায়ই শিরোনাম হয়। সেই ধারায় নতুন নাম। নিত্যানন্দ। স্বঘোষিত হিন্দু ভগবান। শুধু তাই নয় নিজস্ব দেশ আছে এমন দাবি করে বসে আছেন তিনি। দেশটির নাম ‘ইউনাইটেড এস্টেট অব কৈলাসা’। 

এমন দেশের নাম বা আস্তিত্বের বিষয়ে কিছু জানা না গেলেও, কৈলাসা ও নিত্যানন্দ আলোচনায় এসেছে জাতিসংঘের এক সভায় যোগ দিয়ে। এনিয়ে ভারতে ব্যাপক হইচই হচ্ছে। জাতিসংঘের ওপর চটেছে ভারত। প্রশ্ন ওঠেছে, যে দেশের অস্তিত্ব নেই, তারা কি করে জাতিসংঘে। 

পরে জাতিসংঘ বলেছে, কোন দেশ হিসাবে নয়, এনজিও হিসাবে কৈলাসার একজন প্রতিনিধি সেই সভায় যোগ দিয়েছেন নিত্যানন্দের প্রতিনিধি বিজয়প্রিয়া নামে এক নারী। যাকে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়েছে কৈলাসার আন্তর্জাতিক দূত হিসাবে। সভায় বিজয়প্রিয়া কথাও বলেছেন। 

নিত্যানন্দের কৈলাসার মতো পৃথিবীতে এমন অনেক দেশ আছে যেগুলে দেশ হিসাবে স্বীকৃত নয়। তবে তাদের নিজস্ব সীমানা, নিজস্ব সেনাবাহিনী, নিজস্ব বাজেট, নিজস্ব আইন রয়েছে এবং তারা অন্য কারও কথা শোনে না। দেশ-বিশ্বজুড়ে এরকম কয়েক ডজন স্বঘোষিত ক্ষুদ্র দেশ আছে।  

জাতিসংঘে কৈলাসার প্রতিনিধি যোগ দেয়ায় আবারও সামনে এসেছে নিত্যানন্দের নাম। যাকে হন্য হয়ে খুঁজছে পুলিশ। কারণ কয়েক ডজন মামলা নিয়ে ফেরার নিত্যানন্দ। ২০১০ সালে কর্নাটকের রামনগরে স্বঘোষিত ধর্মগুরু নিত্যানন্দকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। ২০২০ সালে নিত্যানন্দের জামিন বাতিল করে দেওয়া হয়। এর পরই হঠাৎ একটি জানা গেলো, ভারত ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছেন নিত্যানন্দ। গত বছরের অগাস্টে তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে দেশটির আদালত। 


ভারতের পলাতক এবং বিতর্কিত ধর্মীয় নেতা নিত্যানন্দ, যিনি ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে জেলে গেছেন এবং চার বছর ধরে দেশ থেকে পলাতক রয়েছেন। তিনি কৈলাসা নামে একটি আলাদা দেশ তৈরি করেছেন বলে দাবি করে আসছেন। 

জাতিসংঘের সভায় রিপাবলিক অফ কৈলাসার প্রতিনিধিকে দেখা গেলেও পৃথিবীর মানচিত্রে এই নামে কোন দেশের অস্তিত্ব নেই। ভারতের পলাতক ধর্মগুরু নিত্যানন্দ এই কাল্পনিক দেশ তৈরি করেছেন। তার সুরক্ষা চাইতেই জাতিসংঘে গিয়েছিলেন বিজয়প্রিয়া নিত্যানন্দ।


তার পুরো নাম বলা হয়েছে ‘মা বিজয়প্রিয়া নিত্যানন্দ’। তিনি জাতিসংঘে নিজেকে কৈলাসার স্থায়ী প্রতিনিধি বলে দাবি করেন। সামাজিক মাধ্যমে বিজয়প্রিয়া দাবি করেছেন, ২০১৪ সালে কানাডার ম্যানিটোবা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাইক্রোবায়োলজিতে স্নাতক হন। 

তিনি ইংরেজি, ফরাসি ও ক্রেওল ভাষা জানেন। মেধাবী ছাত্রী বিজয়প্রিয়াকে কলেজে সেরা পারফরম্যান্সের জন্য সম্মাননাও দেয়া হয়েছিল। ২০১৩ এবং ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক গ্রাজুয়েশন স্টুডেন্ট স্কলারশিপও পেয়েছিলেন।

নিত্যানন্দ ও বিজয়প্রিয়ার পর কৈলাসাও নিয়ে আগ্রহের শেষ নেই। কোথায় এই দেশটি। মানচিত্র ঘেটে কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না কৈলাসা। তবে নিত্যানন্দের দেশ কৈলাসা দক্ষিণ আমেরিকার ইকুয়েডরে রয়েছে। ভারতের থেকে এর দূরত্ব প্রায় ১৭ হাজার কিলোমিটার। 

যদিও কৈলাসার ওয়েবসাইটে দাবি করা হয়েছে যে, বিশ্বে তার দেশের প্রায় দুই কোটি নাগরিক রয়েছে। তবে, বিজয়প্রিয়া নিত্যানন্দ দাবি করেছেন কৈলাসার জনসংখ্যা ২০ লাখ। এসব দাবির যথার্থতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি বিশ্বের কোন গণমাধ্যমের। 

দেশ থেকে পালানোর পর নিত্যানন্দ একটি দ্বীপ কিনেন। দ্বীপটিকে একটি আলাদা দেশ হিসাবে ঘোষণা করা হয় এবং কৈলাসা নামে নামকরণ করা করা হয়। এমনকি তিনি এটির জন্য একটি ওয়েবসাইটও তৈরি করেছেন। তবে সেটিতে দেশটির কোন ছবি দেয়া হয়নি। 


শুধু তাই নয়, স্বঘোষিত ভগবান নিত্যানন্দ নিজেই কাল্পনিক দেশটির প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। দেশের পতাকায়, নিজে দেশের পতাকায় নিজের ছবিও লাগিয়েছেন তিনি। তিনি কৈলাসা আসার জন্য মানুষকে ভিসা দেয়ার দাবিও শুরু করেন। সেখানে উড়োজাহাজ চলাচলের দাবিও করেছেন। 


একাত্তর/এআর