সুনামির এক যুগ: নিহতদের স্মরণ করলো জাপান, এখনও নিখোঁজ অনেকে

১২ বছর আগে উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে শক্তিশালী ভূমিকম্প এবং সুনামির আঘাতে প্রাণ হারানো কয়েক হাজার মানুষকে স্মরণ করলো জাপান। এদিন দেশটির মিয়াগি জেলার ইশিনোমাকিতে নিহতদের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে সমবেত হন অসংখ্য মানুষ। 

এনএইচকে এক প্রতিবেদনে জানায়, স্থানীয় সময় শনিবার ২টা ৪৬ মিনিটে মৃতদের স্মরণে এক মুহূর্তের নীরবতা পালন করা হয়। ২০১১ সালের ১১ই মার্চ ঠিক এই সময়েই ৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হেনেছিল। যার ফলে দশ মিটারেরও বেশি উঁচু সুনামি ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়েছিল।

ওই বিপর্যয় একটি বড় আকারের পরমাণু দুর্ঘটনারও সূত্রপাত হয়, যাকে 'ফুকুশিমা দাইইচি পরমাণু দুর্ঘটনা' বলা হয়। যার সমাধান এখনও করা যায়নি।

ওকুমায় অবস্থিত ফুকুশিমা দাইইচি পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রর ছয়টি চুল্লীর (রিয়্যাক্টরের) দু’টিতে বিস্ফোরণ ঘটে, এর পরেই আরও তিনটি রিয়্যাক্টরের আংশিক গলন ও অগ্নিকাণ্ড ঘটে। নিকটবর্তী অঞ্চলের বহু বাসিন্দাকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির আশেপাশে তেজস্ক্রিয় বিকিরণের মাত্রা প্রতি ঘণ্টায় ৪০০ মিলিসিভার্টে পৌঁছে যায়। 

এদিকে কর্তৃপক্ষ জানায়, ভূমিকম্প এবং সুনামিতে মৃত বা নিখোঁজ ব্যক্তির সংখ্যা বাইশ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এই সংখ্যার মধ্যে এমন ব্যক্তিরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন, যারা দুর্যোগ পরবর্তী বছরগুলোতে স্বাস্থ্য সমস্যা বা এর সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো কারণে মৃত্যুবরণ করেছেন।

অন্যদিকে দেশটির ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সির পরিসংখ্যান মতে, সুনামির পর থেকে এখনও দুই হাজার পাঁচশ' ২৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। 


সেসময় কয়েক লাখ লোক নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন এবং গত মাসের হিসাব অনুযায়ী তাদের মধ্যে ত্রিশ হাজারেরও বেশি এখনও বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছেন।

দুর্যোগের পর ১২ বছর পেরিয়ে গেলেও, ফুকুশিমা দাইইচি পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অদূরের তিনশ' বর্গকিলোমিটারেরও বেশি জমি এখনও "ফিরে আসার জন্য কঠিন” অঞ্চল হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ রয়েছে। এসব এলাকায় ফিরে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা লোকজন এখনও একটি অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে রয়েছেন।

গেলো বছর পরমাণু নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষগুলো জানিয়েছিল যে, ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি থেকে পরিশোধিত এবং পাতলা করে নেয়া পানি সমুদ্রে ছেড়ে দেওয়া হবে। মূলত গলিত জ্বালানি ঠান্ডা করার জন্য এই পানি পাম্প করা হয়েছিল। এদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত চুল্লি ভবনগুলোতে প্রবেশ করা বৃষ্টি এবং ভূগর্ভস্থ পানির সাথে এগুলো মিশ্রিত হয়ে চলেছে।


জাপান সরকারের ভাষ্যানুযায়ী, বেশিরভাগ তেজস্ক্রিয় পদার্থই পরিশোধন করে বের করে নেয়া হলেও কিছু হাইড্রোজেন আইসোটোপ ট্রিটিয়াম অবশিষ্ট রয়ে গেছে। তবে, এর ঘনত্ব বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পানীয় জল সংক্রান্ত মানদণ্ডের এক-সপ্তমাংশে নামিয়ে আনা হবে।

চলতি বছরের বসন্ত বা গ্রীষ্মকালে সমুদ্রে এই পানি ছাড়ার কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে, স্থানীয় মৎস্য শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন এবং অন্যান্য দেশের কিছু লোকজনও এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। 


একাত্তর/আরবিএস