ম্যাক্রোঁর পেনশন আইন সংস্কার নিয়ে বিক্ষোভে উত্তাল প্যারিস

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর পেনশন আইন সংস্কার নিয়ে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস। 

অবসরগ্রহণের বয়সসীমা ৬২ বছর থেকে বাড়িয়ে ৬৪ করার ঘোষণা করার পর থেকেই এ বিক্ষোভ চলমান। খবর: রয়টার্স।

ম্যাক্রোঁর প্রস্তাব নিয়ে বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে ভোটাভুটি হওয়ার কথা ছিল। সেখানে বামপন্থিসহ ম্যাক্রোঁ-বিরোধীরা প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দিয়ে তা হারানোর সিদ্ধান্ত নেন। এ পরিস্থিতিতে ম্যাক্রোঁ একের পর এক বৈঠক করতে থাকেন। শেষ মুহূর্তে তিনি সিদ্ধান্ত নেন ভোটাভুটিতে না গিয়ে সরকার বিশেষ সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করবে। ভোটাভুটি ছাড়াই পার্লামেন্টে বিল পাস করানো হবে।


ফরাসি প্রধানমন্ত্রী এলিজাবেথ বোর্ন জানান, পেনশনপ্রাপ্তদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করতে চায় না সরকার। তাই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

ন্যাশনাল র‌্যালি পার্টির প্রেসিডেন্ট মেরিন লে পেন পার্লামেন্ট ভবনে সাংবাদিকদের বলেন, পার্লামেন্টে ভোটের জন্য বিল না এনে হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা ফ্রান্সের গণতন্ত্রের ঐতিহ্যের সঙ্গে একেবারেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এটা প্রমাণ করছে যে এই সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ এবং নিজের ক্ষমতা ধরে রাখতে মরিয়া। এসময় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগও দাবি করেন তিনি।

আরও পড়ুন: মার্কিন ড্রোন ধ্বংস করা রুশ পাইলটরা পুরস্কৃত

এদিকে, এর পরপরই ট্রেড ইউনিয়নগুলো বিক্ষোভ তীব্র করার সিদ্ধান্ত নেয়। হাজার হাজার বিক্ষোভকারী শহরের কেন্দ্রস্থলে পৌঁছান। বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্টের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। বিক্ষোভকারীদের মোকাবিলায় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। 


জানা গেছে, বিভিন্ন স্থান থেকে এ পর্যন্ত ২১৭ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংস্কারবিরোধী ইউনিয়নগুলো আগামী ২৩ মার্চ পুনরায় ধর্মঘট ডেকেছে।


একাত্তর/জো