সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোট এবং ইয়েমেনের হুথি আনসারুল্লাহ আন্দোলনের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ বন্ধে শান্তি আলোচনার জন্য ওমানের একটি প্রতিনিধিদল ইয়েমেনের রাজধানী সানায় পৌঁছেছে। আর এ আলোচনাকে সফল করতে সৌদি আরব এক ডজনেরও বেশি হুথি বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে।
ইয়েমেনের বন্দি বিনিময় আলোচনার দায়িত্বে থাকা হুথি কর্মকর্তা আবদুল-কাদের আল-মুর্তজা এক টুইট বার্তায় জানিয়েছেন, রোববার মোট ১৩ জন হুথি বন্দি মুক্তির পর সানায় পৌঁছেছে।
তিনি বলেন, হুথিরা এর আগে সৌদি বন্দিদের মুক্তি দিয়েছে। তবে বিদ্রোহীরা কবে সৌদি বন্দিদের মুক্তি দিয়েছে তা তিনি বলেননি।
সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
আল-মুর্তজা আরও বলেন, আজ সৌদি কারাগার থেকে বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে জাতিসংঘের মাধ্যমে সম্মত চুক্তির অংশ হিসেবে।
তিনি গত মাসে সুইজারল্যান্ডে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া একটি চুক্তির কথা উল্লেখ করেন যার মধ্যে ৮৮৭ বন্দির মুক্তির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
২০১৪ সালে ইয়েমেনে সংঘাত শুরু হয়েছিল, যখন হুথিরা সানা এবং দেশের উত্তরের বেশিরভাগ অংশ দখল করে নিয়েছিল। এই সংঘাতকে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে প্রক্সি যুদ্ধ হিসেবে দেখা হয়।
রোববার হুথি নিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা সাবা জানিয়েছে, ইয়েমেনের হুথি সুপ্রিম পলিটিক্যাল কাউন্সিলের প্রধানের সাথে আলোচনার জন্য ওমান এবং সৌদি প্রতিনিধিদল ইয়েমেনের রাজধানী সানায় আসার সাথে সাথে বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
মাস্কাটে অবস্থিত হুথির প্রধান আলোচক মোহাম্মদ আবদুল সালাম শনিবার টুইটারে বলেছেন, তিনিও ওমানি প্রতিনিধি দলের সাথে সানায় পৌঁছেছেন।
আরও পড়ুন: বঙ্গবাজারের ক্ষতিগ্রস্তদের কোটি টাকা দেবে এফবিসিসিআই
ওমান কয়েক বছর ধরে ইরান সমর্থিত হুথি ও সৌদি আরবের মধ্যে আলোচনার আয়োজন করে আসছে।
সম্প্রতি চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে ইরান এবং সৌদি আরবের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার বিষয়ে যে চুক্তি হয়েছে তার কারণে ইয়েমেনে যুদ্ধবিরতি আরও দ্রুততর হবে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী মিশন। এ বিষয়ে একমত প্রকাশ করেছে সৌদি-ইরান।
একাত্তর/আরবিএস