মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলে সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ৫০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্র জাও মিন তুন মঙ্গলবার গভীর রাতে অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, নিরাপত্তা বাহিনী পা জি গি গ্রামে তাদের শাসনের বিরোধিতাকারী একটি কথিত মিলিশিয়া গোষ্ঠীর অফিসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হামলা চালায়।
তিনি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, নিহতদের মধ্যে কয়েকজন ইউনিফর্ম পরিহিত অভ্যুত্থানবিরোধী যোদ্ধা ছিল কিন্তু “বেসামরিক পোশাক পরা কিছু লোক থাকতে পারে”।
পাশপাশি তিনি কিছু মৃত্যুর জন্য মিলিশিয়াদের দ্বারা স্থাপন করা মাইনকে দায়ি করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মঙ্গলবার ভোরে জঙ্গিবিমানগুলো কমিউনিটি হলে বোমা বর্ষণের মাধ্যমে এই হামলার ঘটনা ঘটায়। হেলিকপ্টার গানশিপ থেকে ঘটনাস্থলে বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের উপর গুলি চালানো হয়েছে।
ওই অঞ্চলের প্রাক্তন বিধায়ক উ নে জিন লাট ইরাবদি নিউজ ওয়েবসাইটকে বলেছেন, শিশুসহ অনেক লোক নিহত হয়েছে এবং হতাহতের সংখ্যা ৫০ জনেরও বেশি হতে পারে।
যদিও একাধিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এ হামলায় অন্তত ৫৩ জন নিহত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা একটি প্রশাসনিক কার্যালয় উদ্বোধনের জন্য জড়ো হওয়ার সময় এ বিমান হামলার ঘটনা ঘটে।
জাতিসংঘ, জার্মানি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস দায়ি ব্যক্তিদের জবাবদিহি করতে এবং আহতদের জরুরি চিকিৎসা ও সহায়তার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর জীবনাবসান
জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনার ভলকার তুর্ক বলেছেন যে, তিনি এই হামলায় "ভীত"। এটিকে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি নির্লজ্জ অবহেলা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অংসান সুচি'র নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে সামরিক জান্তা সরকার। তারপর থেকে দেশটিতে জান্তা বিরোধী আন্দোলন তীব্র হয়েছে। ক্ষমতা দখলের পর ২০২৩ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত কমপক্ষে ৬০০ বিমান হামলা চালিয়েছে জান্তা সরকার।
একাত্তর/আরবিএস