পাকিস্তানে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে চীনা নাগরিক আটক

পাকিস্তানের একটি আদালত ধর্ম অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত একজন চীনা নাগরিককে দুই সপ্তাহের জন্য বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যায় অ্যাবোটাবাদের আদালতে উপস্থিত হয়ে ওই ব্যক্তি তার সহকর্মীদের দ্বারা উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করেন। 

স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা তাহির আইয়ুব বুধবার জানান, কর্তৃপক্ষ ঘটনার তদন্ত করছে আর সেইসাথে অভিযুক্তকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। 

মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ পাকিস্তানে ব্লাসফেমি একটি সংবেদনশীল বিষয়, যেখানে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত দেওয়া হতে পারে।

মি. তিয়ান নামে চিহ্নিত ওই ব্যক্তি একটি বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ভারী পরিবহন বিভাগের প্রধান হিসাবে কাজ করেন। গত ১৫ এপ্রিল তাকে নবীকে অপমান করার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। তিনি প্রার্থনার বিরতি নেয়ার সময় শ্রমিকদের কাজের গতি বাড়াতে তাড়া দিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। 

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের কোহিস্তান জেলায় দাসু জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটি তৈরি করছে চায়না গেঝুবা গ্রুপ কোম্পানি।

ঘটনার বিষয়ে পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তি ঈশ্বর ও নবীর সমালোচনা করে অপমানজনক মন্তব্য ও অঙ্গভঙ্গি করেছেন।

এই অভিযোগের পরে ওই এলাকার বাসিন্দারা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে কারাকোরাম হাইওয়ে অবরোধ করেন, যা পাকিস্তানকে চীনের সাথে সংযুক্ত করে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি করেন বিক্ষোভকারীরা।

দাসুর একজন পুলিশ কর্মকর্তা নাসিরুদ্দিন খান বলেন, ঘটনা জানার জন্য একটি তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। 

তিনি জানান, অভিযোগকারী অভিযুক্তের দোভাষী হিসেবে কাজ করেন। পুলিশ অভিযোগকারী এবং অন্যান্য প্রতিবাদকারীর সাথে কথা বলেছে বলেও জানান তিনি।

ইসলামাবাদে চীনা দূতাবাস এখনও এই মামলার বিষয়ে মন্তব্য করেনি, তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র মঙ্গলবার বলেছেন যে তারা ‘তথ্য যাচাই করছেন।’

আরও পড়ুন: সুদানে নিহত বেড়ে ২৭০, ভেস্তে গেছে যুদ্ধবিরতি

এক সংবাদ সম্মেলনে ওয়াং ওয়েনবিন বলেন, ‘চীনা সরকার সবসময়ই বিদেশে থাকা চীনা নাগরিকদের আয়োজক দেশগুলির আইন ও বিধি মেনে চলতে এবং স্থানীয় রীতিনীতি ও ঐতিহ্যকে সম্মান করতে বলে। যদি এই ঘটনায় চীনা নাগরিক জড়িত থাকে, তাহলে আমাদের দূতাবাস তার দায়িত্বের পরিধির মধ্যে কনস্যুলার সুরক্ষা এবং সহায়তা প্রদান করবে।’

যদিও পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে ব্লাসফেমির অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেয়নি, বছরের পর বছর ধরে অসংখ্য লোককে এই ধরনের অভিযোগে বা কঠোর আইনের বিরোধিতা প্রকাশ করার জন্য বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি এবং জনতা পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ১৯৯০ সাল থেকে এ ধরনের সহিংসতায় দেশটিতে ৮০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। 


একাত্তর/এসজে