সুদানে ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যুদ্ধরত সামরিক দলগুলোর গোলাগুলিতে ভেস্তে গেছে ২৪ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি। দেশটিতে সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৭০ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
বুধবার রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরব টেলিভিশন নিউজ চ্যানেলের লাইভ ফিডের পটভূমিতে রাজধানী খার্তুমে উচ্চশব্দে গুলিবর্ষণ শুরু হয় সন্ধ্যা ৬টার কিছুক্ষণ পর।
খার্তুমের উপরে আকাশে যুদ্ধবিমান গর্জন করছিল বলে জানিয়ে রয়টার্সের একজন প্রতিবেদক বলেন, যুদ্ধবিরতি হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই ট্যাঙ্ক থেকে গুলি চালানোর শব্দ শোনা যায়। একজন বাসিন্দা রয়টার্সকে বলেন, তিনি নীলনদের ওপারে ওমদুরমান শহরে বিমান হামলা চালানোর কথা শুনেছেন।
সেনাবাহিনীর সদর দফতর এবং খার্তুম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের চারপাশে যুদ্ধ আরও ঘনীভূত হয়েছে বলে জানিয়েছে আলজাজিরা।
দেশটির সেনাবাহিনী এবং প্রতিদ্বন্দ্বী আধাসামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) বিবৃতি জারি করে একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতিকে সম্মান করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ করেছে। সেনাবাহিনীর হাইকমান্ড বলেছে, তারা রাজধানী এবং অন্যান্য অঞ্চলকে নিরাপদ করতে অভিযান চালিয়ে যাবে।
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক নিউইয়র্কে একটি সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেছেন, ‘আমরা এখানে এমন কোনো ইঙ্গিত পাইনি যে যুদ্ধ থামানো হয়েছে।’
সুদানের সামরিক নেতা এবং শাসক পরিষদে তার সহকারীর মধ্যে দ্বন্দ্ব চার দিন আগে শুরু হয়। ইসলামপন্থী স্বৈরশাসক ওমর আল-বশিরের গণবিক্ষোভের পতনের চার বছর পরে বেসামরিক গণতন্ত্রে রূপান্তরের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে সমর্থিত একটি পরিকল্পনাকে লাইনচ্যুত করে দেয় এটি।
আরও পড়ুন: দামেস্কে আসাদের সাথে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক
এই লড়াইকে জাতিসংঘ একটি মানবিক বিপর্যয় বলে বর্ণনা করেছে, যার মধ্যে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি তার তিন কর্মী নিহত হওয়ার পর সুদানে তাদের কার্যক্রম স্থগিত করেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেছেন, মঙ্গলবার তিনি সেনাপ্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান এবং আরএসএফ নেতা জেনারেল মোহাম্মদ হামদান দাগালো উভয়কে টেলিফোন করে ‘সুদানিদের নিরাপদে পরিবারের সাথে পুনরায় মিলিত হতে দেওয়ার জন্য’ যুদ্ধবিরতির আবেদন করেছেন।
একাত্তর/এসজে
