৮৭ দিন অনশনের পর ইসরাইলে বন্দি ফিলিস্তিনির মৃত্যু

ইসরাইলের কারাগারে ৮৭ দিন ধরে আমরণ অনশনে থাকা ফিলিস্তিনি বন্দি খাদের আদনান মারা গেছেন। ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদের এ সদস্যকে গত ৫ ফেব্রুয়ারি আটক করেছিল ইসরাইলি বাহিনী। 

মঙ্গলবার (২ মে) ইসরাইলি কারা কর্তৃপক্ষের বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। 

ইসরাইলের দাবি, চিকিৎসা পরীক্ষা করাতে এবং চিকিৎসা নিতে অস্বীকার করেছিলেন তিনি এবং মঙ্গলবার ভোরে তাকে "তার কক্ষে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়"।

কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আদনানকে সুস্থ্য করার ব্যর্থ প্রচেষ্টার পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। 

তবে আদনানের আইনজীবী ইসরাইলের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন।

আইনজীবী জামিল আল-খতিব ফোনে রয়টার্সকে বলেছেন, আদনানের গ্রেপ্তারের ৩৬ দিন পর, আমরা তাকে একটি সিভিল হাসপাতালে স্থানান্তর করার দাবি জানিয়েছিলাম যেখানে তাকে যথাযথভাবে অনুসরণ করা যেতে পারে। দুর্ভাগ্যবশত, ওই দাবিতে ইসরাইলি কারাগার কর্তৃপক্ষের আপত্তি ছিল এবং তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। 


এদিকে আদনানের মৃত্যুর ঘোষণার পরপরই ইসরাইলের গাজা সীমান্ত এলাকাগুলোতে সাইরেন বেজে ওঠে। অনেকেই প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসে। 

ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গাজা উপত্যকা থেকে ইসরাইলি ভূখণ্ডের দিকে তিনটি রকেট ছোড়া হলেও তা খোলা জায়গায় পড়ে।

ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ এক বিবৃতিতে বলেছে, আমাদের লড়াই অব্যাহত রয়েছে এবং শত্রুরা আবারও বুঝতে পারবে যে, তাদের অপরাধের জন্য কোনো প্রকার ছাড় দেয়া হবে না। সমস্ত শক্তি এবং সংকল্প দ্বারা প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে।  

আরও পড়ুন: বিশ্বব্যাংক প্রধানকে পদ্মা সেতুর ছবি উপহার শেখ হাসিনার

৪৫ বছর বয়সী আদনান মূলত অধিকৃত শহর জেনিনের বাসিন্দা এবং পশ্চিম তীরের একজন পরিচিত মুখ।  

ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মতে, আদনানকে মোট ১২ বার আটক করে ইসরাইল। তিনি প্রায় আট বছর কারাগারে কাটিয়েছে। 

ইসরাইল আদনানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসকে সমর্থন, একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং উসকানি দেওয়ার অভিযোগ আনে। ২০০৪ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে আটক থাকার সময় তিনি কমপক্ষে পাঁচটি অনশন করেছিলেন।


একাত্তর/আরবিএস