তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে সুদানে সামরিক বাহিনী ও আধা সামরিক বাহিনীর সংঘাত। লড়াই শুরু হওয়ার পর একাধিকবার অস্ত্রবিরতিতে সম্মত হলেও কোনোটিই কার্যকর হয়নি। বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি বেড়েই চলেছে। তবে সুদানের সংঘাতপ্রবণ রাজনীতির ইতিহাস নতুন নয়।
স্বাধীনতার পর থেকেই সুদানের উত্তর আর দক্ষিণ অংশের মধ্যে সংঘাত চলছিল, আফ্রিকার অন্যতম বড় একটি দেশে সহিংসতার ঘটনা ছিল নিয়মিত। রাজনৈতিক সমঝোতায় আসতে ব্যর্থ হয়ে ২০১১ সালে শান্তির সন্ধানে দক্ষিণ অংশে প্রতিষ্ঠিত হয় নতুন রাষ্ট্র।
কিন্তু, বিভাজিত রাষ্ট্র দুটিতেও কাঙ্ক্ষিত শান্তি আসেনি, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা আর সংঘাত ছিলো নিয়মিত ঘটনা। ২০১৯ সালের গণআন্দোলনের মাধ্যমে পতন ঘটে সুদানের দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসক ওমর-আল-বশিরের, প্রতিষ্ঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
এরপর সামরিক বাহিনী এক সফল অভ্যুত্থান ঘটায় ২০২১ সালে। অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেন জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের ও জেনারেল মোহামেদ হামদান দাগালো।
সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জেনারেল আল-বুরহান, একই সাথে তিনি সশস্ত্র বাহিনীর অধিনায়কও। অন্যদিকে জেনারেল হামদান দেশটির উপ-নেতা, আবার র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সের কমান্ডারও।
এক সময় জেনারেল আল-বুরহান আর জেনারেল দাগালো ছিলেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু, ক্ষমতা দখলের পরে দেশ পরিচালনার জন্য জেনারেলদের নিয়ে গঠিত কাউন্সিলের নেতৃত্বও ছিল তাদের হাতে।
কিন্তু, সম্প্রতি বিভিন্ন উদ্যোগে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে দুই জেনারেলের মধ্যে, তৈরি হয়েছে দূরত্বও। এর মধ্যো অন্যতম হলো প্যারামিলিটারি বাহিনী আরএসএফকে সামরিক বাহিনীর সাথে একীভূত করে ফেলা। আর এতেই খিপ্ত হয়ে ওঠেন আরএসএফ প্রধান হামদান দাগালো।
এর ফলে গতো ১৫ এপ্রিল থেকে সুদানের রাজধানী খার্তুমে লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ে জেনারেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের অনুগত সেনাবাহিনী ও জেনারেল দাগালোর অনুগত আরএসএফ।
এই সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত কয়েকশ মানুষ নিহত ও হাজারেরও বেশি আহত হয়েছে। তাছাড়া, হাজার মানুষ দেশ ছেড়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে পালিয়ে যাচ্ছেন। সংঘাতের তীব্রতায় অনেক দেশই তাদের নাগরিকদের সরিয়ে নিয়েছে, অনেক দেশ বাধ্য হয়েছে দূতাবাস বন্ধ করে দিতে।