অবশেষে পাওয়া গেলো বিধ্বস্ত টাইটনিকের ত্রিমাত্রিক ছবি

এই প্রথম বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত জাহাজ টাইটানিকের পূর্ণাঙ্গ ছবি পাওয়া গেলো। ডিপ সি ম্যাপিং পদ্ধতি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে জাহাজটির থ্রিডি ফটো। এর আগে আর কখনও টাইটানিকের এমন ছবি দেখা যায়নি। 

ইংল্যান্ডের সাউদাম্পটন বন্দর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের দিকে যাত্রা করে বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত যাত্রীবাহী জাহাজ টাইটানিক। দিনটা ছিলো ১৯১২ সালের ১০ এপ্রিল।

ঠিক পাঁচ দিনের মাথায় ১৫ই এপ্রিল আটলান্টিকের বড় একটি আইসবার্গের সাথে ধাক্কা খেয়ে ডুবে যায় জাহাজটি। দুই হাজার আরোহীর মধ্যে দেড় হাজার আরোহীই মারা যান। 

উদ্ধার করা যায়নি জাহাজটির ধ্বংসাবশেষও। বিশ্বের সবচেয়ে রহস্যময় ও আলোচিত জাহাজ দুর্ঘটনায় স্থান পায় টাইটানিক। গত ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আলোচনায় টাইটানিক। চেষ্টা হয়েছে জাহাজটির চেহারা বোঝার। কিন্তু সম্ভব হয়নি। 

এবারই প্রথম এর ত্রিমাত্রিক বা থ্রিডি অর্থাৎ দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা- এই তিন মাত্রার দৃশ্য পাওয়া গেলো। আশা করা হচ্ছে, এবার জানা যাবে, ডুবে যাওয়ার সময় জাহাজটিতে কী ঘটেছিলো।

২০২২ সালের গ্রীষ্মে ম্যাগেলান নামের একটি ডিপ-সি ম্যাপিং কোম্পানি এবং আটলান্টিক প্রোডাকশন্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান তথ্যচিত্রের প্রয়োজনে ছবিগুলো তোলার ব্যবস্থা করে। 

টাইটানিকের ছবি তুলতে তারা ২০০ ঘণ্টারও বেশি সময় ব্যয় করেছে। আর সাত লাখেরও বেশি ছবি যুক্ত করে পাওয়া গেছে থ্রিডি ছবি। 

দেখে মনে হয় যেন আটলান্টিকের সব পানি সরিয়ে জাহাজটির দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে। এসব ছবিতে টাইটানিকের বিশালত্ব ফুঁটে উঠেছে। 

পাশাপাশি জাহাজটির একটি প্রপেলারের সিরিয়াল নম্বরের মতো ছোটখাটো বিষয়ও ধরা পড়েছে। 

টাইটানিক গবেষকদের মনে নতুন করে গবেষণার আশা জাগাচ্ছে নতুন ছবিগুলো।

টাইটানিক বিশেষজ্ঞ পার্কস স্টিফেনসন বলেন, টাইটানিকের বিষয়ে জল্পনা কল্পনার ওপর ভিত্তি করে কোনো গবেষণা নয়, বরং তথ্যপ্রমাণ-ভিত্তিক গবেষণাকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য এই মডেল বড় ধরনের প্রথম কোনো পদক্ষেপ।

গবেষকদের আশা, এখন যেসব ছবি পাওয়া গেলো সেখান থেকে জাহাজের খুঁটিনাটি সব বিষয়ও বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা করে দেখতে পারবেন। হয়তো বেরিয়ে আসবে টাইটানিকের আরো অনেক গোপন বিষয়। যেখান তৈরি হতে পারে কালজয়ী আরেকটি সিনেমা। 

একাত্তর/এআর