বিশ্বে টিকা বিতরণের পরবর্তী পরিকল্পনা জানালো যুক্তরাষ্ট্র

করোনার টিকা নিয়ে বিশ্বের যে সব দেশ সংকটের মধ্যে আছে তাদের পাশে দাঁড়ানোর আরো একটি পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন। 

সোমবার (২১ জুন), বাইডেন প্রশাসন পরবর্তী চালানের সাড়ে পাঁচ কোটি ডোজ টিকা কোন কোন দেশে পাঠানো হবে, সেই পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করে। 

এর মধ্যে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিজেদের সংগ্রহ থেকে আট কোটি টিকার ডোজ সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে যাচ্ছে। 

এছাড়া নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোর জন্য ফাইজার থেকে আরো ৫০ কোটি ডোজ টিকা ক্রয়ের কথাও জানিয়েছে ওয়াশিংটন। 

পরিকল্পনা অনুয়ায়ী, সাড়ে পাঁচ কোটি ডোজের মধ্যে ৭৫ ভাগ, অর্থাৎ চার কোটি ১০ লাখ ডোজ বিতরণ করা হবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কোভ্যাক্স কর্মসূচির মাধ্যমে। 

বাকি ২৫ ভাগ বা এক কোটি ৪০ লাখ ডলার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিভিন্ন দেশে বিতরণ করবে বাইডেন প্রশাসন। এক্ষেত্রে ওয়াশিংটন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। 

যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কোভ্যাক্স যে চার কোটি ১০ লাখ ডোজ টিকা পাবে, সেসবের মধ্যে লাতিন আমেরিকাতে যাবে এক কোটি ৪০ লাখ ডোজ, এশিয়া পাবে প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ ডোজ এবং আফ্রিকান ইউনিয়নের মাধ্যমে মহাদেশটি পারে এক কোটি ডোজ। 

প্রথম দফার চালানে জনসন এন্ড জনসন, ফাইজার-বায়োএনটেক এবং মর্ডানার তৈরির টিকার কথা বলা হলেও, দ্বিতীয় দফার চালানে কোন টিকা দেয়া হবে সেটি এখনো পরিস্কার হয়নি। 

আমেরিকার কর্তৃপক্ষ এখনো অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি করোনা টিকার জরুরি ব্যবহারে অনুমোদন দেয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে এই অনুমোদন এখন সময়ের ব্যাপার। কারণ, এই টিকার বিশাল মজুদ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। 

বিশ্বের ধনী দেশগুলো ব্যাপক হারে টিকাকরণের মাধ্যমে মহামারীর প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেলার চেষ্টা করছে। অথচ লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকাসহ বিশ্বের অনেক দেশেই করোনার সংক্রমণ নতুন করে বাড়ছে। 

অথচ এসব দেশ তো বটেই, নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে জনসংখ্যার এক শতাংশের কম মানুষের টিকাকরণ হয়েছে। 


একাত্তর/এসজে