ওড়িশায় ট্রেন দুর্ঘটনার গোয়েন্দা তদন্ত চায় রেল মন্ত্রণালয়

ভারতের ওড়িশায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় দেশটির শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআইকে তদন্ত করার সুপারিশ করেছে কেন্দ্রীয় রেল মন্ত্রণালয়। 

সোমবার রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করলেও এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানাননি তিনি।

এ ঘটনায় ইতোমধ্যে রেলের নেতৃত্বে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং সিগন্যাল ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয়েছে। 

শুক্রবার রাতে তিনটি ট্রেনের সংঘর্ষকে এই শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

এ দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ২৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং এক হাজারেরও বেশি আহত হয়েছেন। অনেকেই এখনও তাদের প্রিয়জনকে খুঁজছে।

তবে অন্যান্য তদন্ত শুরু হওয়া সত্ত্বেও, রেলওয়ে বোর্ড কেন সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই) দ্বারা পৃথক তদন্তের সুপারিশ করেছে তা এখনো স্পষ্ট নয়। 

ভারতের শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই গুরুতর আর্থিক জালিয়াতি এবং খুনসহ হাইপ্রোফাইল অপরাধের তদন্ত করে থাকে৷

রেলমন্ত্রী রোববার বলেন, দুর্ঘটনার ‘মূল কারণ’ এবং ‘অপরাধমূলক কাজের’ জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হয়েছে।

‘ইলেকট্রনিক ইন্টারলকিংয়ে পরিবর্তন’ দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ বলে জানিয়ে জনগণকে চূড়ান্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করার আহ্বান জানান তিনি। 

রেলওয়ে নিরাপত্তা কমিশনারের একটি প্রতিবেদন শিগগিরই প্রকাশ করা হবে এবং সেখানে কারণ জানানো হবে বলেও জানান তিনি। 

এদিকে রেলওয়ে রোববার জানায়, সিগন্যাল ত্রুটি এবং ‘ইলেক্ট্রনিক ইন্টারলকিং পরিবর্তন’ এর কারণে করমণ্ডল এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন এবং বগিগুলোর সাথে মালবাহী ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। 

রেলওয়ে সিগন্যালিংয়ে ইলেকট্রনিক ইন্টারলকিং সিস্টেম প্রতিটি ট্রেনের জন্য একটি নির্দিষ্ট এলাকায় রুট নির্ধারণ করে, যা ট্র্যাক বরাবর ট্রেনের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করে।

আরও পড়ুন: ওয়াশিংটনে যুদ্ধবিমানের তাড়া খেয়ে উড়োজাহাজ পাহাড়ে বিধ্বস্ত

দুর্ঘটনার ফলে করমণ্ডল এক্সপ্রেসের বগিগুলো তৃতীয় ট্র্যাকে ছিটকে পড়ে এবং তারা বেঙ্গালুরু-হাওড়া সুপারফাস্ট এক্সপ্রেসের পিছনের বগিতে ধাক্কা দেয়। দুটি যাত্রীবাহী ট্রেনে তিন হাজারের বেশি যাত্রী ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংঘর্ষের ফলে বেশ কয়েকটি কোচ পিষ্ট হয়ে যায় এবং যাত্রীদের কাছে পৌঁছাতে উদ্ধারকর্মীদের ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। শতাধিক অ্যাম্বুলেন্স, ডাক্তার, নার্স এবং উদ্ধারকর্মীকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় এবং ১৮ ঘণ্টার চেষ্টায় তারা নিহতদের মরদেহ ও জীবিতদের উদ্ধার করেন। 


একাত্তর/এসজে