শুকিয়ে যাচ্ছে ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলের জলাভূমি। টানা অনাবৃষ্টি আর পানির স্তর নেমে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে ভয়াবহ খরা। এতে জীবিকা সংকটে পড়েছে কৃষক ও জেলেদের। সার্বিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গোটা দেশের অর্থনীতিও।
এখন আর দেখে বোঝার উপায় নেই, একসময় মিঠা পানির প্রাচুর্য ছিলো এই অঞ্চলে। বিস্তীর্ণ জলাভূমি এখন নালা মাত্র। আর সেই সব নালা থেকে ওঠে ছোট্ট মরা মাছ। পশুখাদ্য ছাড়া যার আর কোনো ব্যবহার সম্ভব নয়।
ইউনেস্কো বলছে, একসময় নানা ধরণের মাছ ও শুটকির আড়ত ছিলো এই এলাকায়। কিন্তু এখন তার কিছুই আর অবশিষ্ট নেই। কারণ খরায় জলাধার সব শুকিয়ে গেছে। পাশাপাশি সাগরের পানি চুইয়ে লবণাক্ততা বেড়ে গেছে জলাভূমিগুলোর। তাই ছোট মাছও আর বাঁচতে পারে না।
মিঠা পানি আর অবশিষ্ট নেই। আগে অনেক মাছ ছিলো। খরা, লবণাক্ততা আর বাঁধের কারণে এখন কিছুই নেই। বাঁচবো কিভাবে- এ প্রশ্ন এখন হাজারো কৃষকের। জলাভূমিগুলোকে কেন্দ্র করেই হাজার বছর আগে গড়ে উঠেছিলো বিশ্ব ইতিহাসের বিখ্যাত মেসোপটেমিয় সভ্যতা।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, গত বছরের নভেম্বর পর্যন্ত খরার কারণে বাস্তুচ্যুত হয়েছে ইরাকের ৬২ হাজার মানুষ। প্রকৃতির এই চরম অবস্থার জন্য বেশ কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। নদীর ওপর ইরান ও তুরস্কের বাঁধ নির্মাণ, পানিসম্পদের অব্যবস্থাপনা এবং নদীর মারাত্মক দূষণ আর মানুষের সৃষ্টি পরিবেশের বিপর্যয়ের কারণে বৃষ্টির পরিমাণ কমে গেছে।
এরই মধ্যে এলাকা ছাড়তে শুরু করেছেন কৃষক, জেলে ও নৌকার কারিগররা। জীবিকার আশায় ছুটছেন শহরে। কিন্তু সেখানে তো আগে থেকেই অনেক ওপরে বেকারত্বের হার। পানি যখন বেশি ছিলো, তখন নৌকার চাহিদাও ছিলো বেশি।
দুই থেকে তিনটা বড় নৌকা আর চার-পাঁচটা ছোট নৌকা বানাতের কারিগররা। এখন আর কাজ নেই। আর এই কাজ ছাড়া আর কিছু জানেও না তারা।
আরও পড়ুন: ইউক্রেনে পশ্চিমা সমরাস্ত্র ধ্বংসের দাবি রাশিয়ার
২০০৩ সালে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের পর কিছু জলাধারে পানির প্রবাহ আনার ব্যবস্থা করা হয়। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। আর পুরোপুরি সমাধান হয়নি এই এলাকার পানি সংকটের, সেই সাথে আর্থিক মন্দারও।
একাত্তর/আরএ