সুদানের রাজধানী খার্তুমের নিয়ন্ত্রণ নিতে দুই পক্ষের মধ্যে সাত সপ্তাহের লড়াইয়ে এক নতুন সমস্যার মুখোমুখি রাজধানীবাসী। চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে মরদেহ।
বাতাসে পচা গন্ধে ভারী হয়ে উঠছে রাজধানীর পরিবেশ। তাই, বাধ্য হয়ে ঘরের ভেতরে, বাড়ির আঙ্গিনায় বা রাস্তার পাশে দাফন করছেন সেচ্ছাসেবীরা।
ক্ষমতা দখলকে কেন্দ্র করে গত ১৫ এপ্রিল থেকে সুদানে সংঘাত চলছে। এক পক্ষে রয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান।
অন্য পক্ষে আছেন আরএসএফের প্রধান সাবেক মিলিশিয়া নেতা জেনারেল মোহাম্মদ হামদান দাগালো। বিবাদমান এই দুই পক্ষের মধ্যে এখনও কোন সমঝোতা হয়নি।
এই লড়াইয়ে ঠিক কতজন মারা গেছেন, তা নিশ্চিত না হলেও ধারণা করা হচ্ছে, বেসামরিক মানুষসহ হাজারের বেশি মানুষ এরই মধ্যে নিহত হয়েছে।
গৃহহীন হয়েছেন ১০ লাখের বেশি মানুষ। প্রাণভয়ে অসংখ্য মানুষ দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। লড়াইরত দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফায় যুদ্ধবিরতি হলেও তারা তা মানে না।
এই অবস্থায় মরদেহ কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। তাই মানুষের মরদেহ তাদের ঘরের ভেতরে, বাড়ির আঙ্গিনায় বা রাস্তার পাশে দাফন করছেন সেচ্ছাসেবীরা।
রেডক্রস ও সুদানিজ রেড ক্রিসেন্টের সাথে মিলে মরদেহগুলো কোনো কোনো ক্ষেত্রে কবরস্থানে নিতে কাজ করছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। তবে দু’পক্ষের চলমান লড়াই এ ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত ১১ মে সুদানের দুই চিকিৎসক বোনকে কবর দেয়া হয় তাদের বাড়ির বাগানে। সেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বাগানে একটি কবরেই দুজনকে দাফন করা হয়েছে।
তবে, কতজনকে বাড়িতে বা সুদানের পাশের এলাকায় কবর দেয়া হয়েছে, তার কোনো সরকারি হিসাব নেই। স্বাস্থ্য বিপর্যয় এড়াতে এবং নৈতিকতা থেকে অনেকে মরদেহ দাফন করছেন।
সৎ উদ্দেশ্য থাকার পরও এই উদ্যোগ অজান্তেই যুদ্ধাপরাধের প্রমাণগুলোকে নষ্ট করে দিতে পারে বলে মনে করছেন সেখানকার চিকিৎসকেরা।
তারা বলছেন, যেভাবে দাফন করা হচ্ছে, সেটা ‘অপেশাদার’ পদ্ধতি। এর মধ্য দিয়ে ‘সত্যের কবর’ হতে পারে। কারণ লোকজনকে কীভাবে মারা হয়েছে সেই সূত্রগুলোও ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
তাই মরদেহ দফনে বিদেশিদের সহায়তাও চাওয়া হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবীরা জানান, দাফন করার আগে তাঁরা মরদেহের মুখ ও মরদেহের ছবি তুলে রাখছেন, যাতে ভবিষ্যতে শনাক্ত করা যায়।