রুয়ান্ডা-সমর্থিত এম-২৩ বিদ্রোহীরা জানিয়েছে , তারা নিজেদেরকে পূর্ব কঙ্গোর উভিরা শহর থেকে প্রত্যাহার করে নেবে। গত সপ্তাহে শহরটি দখলের পর যুক্তরাষ্ট্র বিদ্রোহীদের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে জানায়, এর ফলে মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার বড় ধরনের হুমকি পড়তে পারে বলে মনে করছে ওয়াশিংটন।
যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে বিদ্রোহীরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কঙ্গো ও রুয়ান্ডার প্রেসিডেন্টরা ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে 'ওয়াশিংটন অ্যাকর্ডস' নামে পরিচিত একটি শান্তি চুক্তির প্রতি তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে, বুরুন্ডির সীমান্তবর্তী উভিরা শহরে বিদ্রোহীরা প্রবেশ করেছিলো। এতে তীব্র অসন্তোষ জানিয়েছিলো ওয়াশিংটন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওশনিবার বলেন, পূর্ব কঙ্গোয় রুয়ান্ডার কার্যকলাপ ওয়াশিংটন সমঝোতার লঙ্ঘন এবং তিনি ট্রাম্পের কাছে করা প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নেয়ার অঙ্গীকার করেন।
রুয়ান্ডা অবশ্য এম ২৩-কে সমর্থন করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং নতুন করে শুরু হওয়া লড়াইয়ের জন্য কঙ্গো ও বুরুন্ডির সামরিক বাহিনীকে দায়ী করেছে। তবে, জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের একটি গ্রুপের জুলাই মাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, রুয়ান্ডা বিদ্রোহীদের ওপর কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে।
এম-২৩ সহ কঙ্গো রিভার অ্যালায়েন্সের নেতা কর্নেল নাঙ্গা এক্সে মধ্যরাতে একটি পোস্টে জানান, বিদ্রোহীরা শহরটি থেকে সরে আসবে। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ দোহা শান্তি প্রক্রিয়াকে সফল হওয়ার সর্বোচ্চ সুযোগ দেওয়ার জন্য একটি একতরফা আস্থা-নির্মাণমূলক পদক্ষেপ।
এম-২৩ ওয়াশিংটন-মধ্যস্থতা আলোচনার পক্ষ নয়, তবে তারা কঙ্গো সরকারের সাথে কাতারের আয়োজনে আলাদা ও সমান্তরাল আলোচনায় অংশ নিচ্ছিল।

বিদ্রোহী সূত্র জানিয়েছে এম-২৩ এবং কঙ্গোর উভয় বাহিনীই উভিরা থেকে ৫ কিলোমিটার দূরত্বে একটি বাফার জোন তৈরি করে সেখান থেকে চলে যাবে। তবে, কঙ্গোর সেনাবাহিনীর মুখপাত্র জেনারেল সিলভাইন একেঙ্গে মঙ্গলবার রয়টার্সকে জানান, কঙ্গোর বাহিনী উভিরা শহরের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারে বদ্ধপরিকর।
তিনি বলেন, উভিরা ডিআরসি’র একটি শহর। আমরা শহরটি পুনরুদ্ধার এবং সুরক্ষিত করার জন্য আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে সবকিছু করব। কঙ্গো এবং বুরুন্ডি সরকার তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।
এদিকে, মঙ্গলবার উভিরা শহরের শত শত বাসিন্দা একটি মিছিলে অংশ নেয়, যা কঙ্গো এবং তাদের সহযোগী বাহিনীকে তাড়িয়ে দেওয়ার জন্য এম ২৩-কে ধন্যবাদ জানাতে এই কর্মসূচি আয়োজিত হয়েছিল।
জানুয়ারিতে এম-২৩ তড়িৎ হামলায় পূর্ব কঙ্গোর দুটি বৃহত্তম শহর দখল করে নেয়, যেখানে হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। এরপর থেকে বিদ্রোহীরা পূর্বে একটি সমান্তরাল প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করার কাজ করছে, যা মধ্য আফ্রিকান দেশটিকে দীর্ঘস্থায়ী ভাঙনের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
