আরব সাগরে সৃষ্ট শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় 'বিপর্যয়' আগামীকাল সন্ধ্যায় ভারতের গুজরাটের সৌরাষ্ট্র ও কচ্ছ অঞ্চল এবং সংলগ্ন পাকিস্তান উপকূলে আঘাত হানবে। ঝড়টি বর্তমানে গুজরাটের উপকূলীয় শহর পোরবন্দর থেকে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, পূর্ব-মধ্য আরব সাগরে অবস্থান করছে।
এনডিটিভি জানিয়েছে, মঙ্গলবার গুজরাট কর্তৃপক্ষ উপকূলীয় অঞ্চল থেকে কমপক্ষে ৪৪ হাজার লোককে অস্থায়ী আশ্রয়ে স্থানান্তরিত করেছে।
ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) এরইমধ্যে সৌরাষ্ট্র ও কচ্ছসহ গুজরাটের বেশ কিছু এলাকায় রেড অ্যালার্ট জারি করেছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স ও স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (এসডিআরএফ) প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া ত্রাণ প্রচেষ্টায় সহায়তা করার জন্য তৈরি রয়েছে সেনাবাহিনী।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে একটি ভার্চুয়াল বৈঠকে ঘূর্ণিঝড়ের জন্য গুজরাটের প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেছেন।
শাহ রাজ্য সরকারকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। পাশপাশি বিদ্যুৎ, টেলিযোগাযোগ, স্বাস্থ্যসেবা এবং পানীয়সহ সমস্ত প্রয়োজনীয় পরিষেবা নিশ্চিত করতে বলেছেন।
আহমেদাবাদ আইএমডির পরিচালক মনোরমা মোহান্তির মতে, ঘূর্ণিঝড়টি আগামীকাল সন্ধ্যায় জাখাউ বন্দরের কাছে কচ্ছের মান্ডভি এবং পাকিস্তানের করাচির ভেতর দিয়ে অগ্রসর হবে। এসময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার এবং সর্বোচ্চ প্রতি ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার হতে পারে।
সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ৬৯টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে এবং ৩২টি ট্রেনের গন্তব্যস্থল পরিবর্তন হয়েছে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় বিপর্যয়ের প্রভাবে গুজরাটের কুচ ও রাজকোট জেলায় ঝড়ো হাওয়ায় দেয়াল ধসে পড়ে তিন জন মারা গেছেন।
পাকিস্তানের দুর্যোগ মোকাবেলা অধিদপ্তর জানিয়েছে, ১৫ জুন সিন্ধের দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব অঞ্চলে আঘাত হানতে পারে ‘বিপর্যয়’। সেক্ষেত্রে সিন্ধ প্রদেশের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে মঙ্গলবার থেকে প্রবল বর্ষণ, ঝড়ো হাওয়া ও বন্যা দেখা দেওয়ার সমূহ আশঙ্কা রয়েছে।