বিশ্বব্যাপী খবরে আগ্রহী মানুষের সংখ্যা কমেছে: জরিপ

গত ছয় বছরে খবরে প্রবল আগ্রহী লোকের সংখ্যা প্রায় এক চতুর্থাংশ কমেছে বলে একটি বৈশ্বিক গবেষণায় দেখা গেছে। 

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির রয়টার্স ইনস্টিটিউটের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সারা বিশ্বে বর্তমানে ৪৮ শতাংশ মানুষ খুব বা অত্যন্ত আগ্রহী। ২০১৭ সালে এই হার ছিল ৬৩ শতাংশ। 

বিশ্বব্যাপী এক তৃতীয়াংশেরও বেশি লোক (৩৬ শতাংশ) বলেছেন, তারা কখনও কখনও বা প্রায়ই সক্রিয়ভাবে খবর এড়িয়ে চলেন।

ইনস্টিটিউটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রোতারা ‘ইউক্রেনের যুদ্ধ এবং জীবনযাত্রার ব্যয়-সংকটের মতো গুরুত্বপূর্ণ গল্পগুলো বেছে বেছে এড়িয়ে চলেছেন, কারণ তারা হতাশাজনক খবর পড়া কমিয়ে মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষার দিকে নজর দিচ্ছেন’। 

ডিজিটাল নিউজ রিপোর্ট ২০২৩-এ আরও বলা হয়েছে, ঐতিহ্যবাহী টিভি এবং প্রিন্ট নিউজ মিডিয়া ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে, কারণ ‘অনলাইন গ্রাহকরা অতীতের তুলনায় কম খবর পড়ছেন এবং আরও কম আগ্রহী হয়ে উঠছেন’। 

জরিপে দেখা গেছে, প্রতি ১০ জনের মধ্যে চারজন বলেছেন যে তারা বেশিরভাগ সময় বেশিরভাগ সংবাদে বিশ্বাস করেন। এই হার গত বছরের তুলনায় দুই শতাংশ কম।

গবেষণায় আরও জানানো হয়েছে, জরিপকৃতদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি (৫৬ শতাংশ) অনলাইনে কোন খবর আসল এবং নকল তা শনাক্ত করার বিষয়ে চিন্তিত, যা গত বছরের চেয়ে দুই শতাংশ বেশি।

সংবাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এখনও ফেসবুক, যদিও এটি দীর্ঘমেয়াদী পতনের মধ্যে রয়েছে। গত সাত বছরে সংবাদের জন্য প্রতি সপ্তাহে ফেসবুকে প্রবেশকারীর সংখ্যা ৪২ শতাংশ থেকে ২৮ শতাংশে নেমে এসেছে।

অন্যদিকে টিকটক এবং ইনস্টাগ্রাম উভয়ের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। ইনস্টাগ্রাম এখন ১৪ শতাংশ ও টিকটক ছয় শতাংশ লোকের জন্য খবরের উৎস। 

তবে তরুণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে এই হার অনেক বেশি। ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন (২০ শতাংশ) টিকটক থেকে খবর পান, যা গত বছরের (১৫ শতাংশ) চেয়ে বেশি। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্ল্যাটফর্মটি ‘আমাদের সমীক্ষায় সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল সামাজিক নেটওয়ার্ক’।

যদিও, এসব খবর গতানুগতিক উৎস থেকে আসে না। টিকটক ব্যবহারকারীরা মূলধারার সংবাদ আউটলেট বা সাংবাদিকদের চেয়ে সেলিব্রিটি, প্রভাবশালী বা সাধারণ নির্মাতাদের কাছ থেকে খবর পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

রয়টার্স ইনস্টিটিউটের পরিচালক রাসমুস নীলসেন বলেন, পুরানো প্রজন্মের অভ্যাস, আগ্রহ এবং মূল্যবোধ ভিত্তিক অনেক প্রচলিত সংবাদে তরুণ প্রজন্মের খুব একটা আগ্রহ নেই। এর পরিবর্তে তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় আরও ব্যক্তিত্ব-ভিত্তিক, অংশগ্রহণমূলক এবং বিশেষায়িত বিকল্পগুলোকে বেছে নেন। 

আরও পড়ুন: বেলারুশে ঢুকতে শুরু করেছে রুশ পারমাণবিক অস্ত্র

উন্মুক্ত সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোতে খবর সম্পর্কে লাইক, শেয়ার এবং মন্তব্যও হ্রাস পাচ্ছে বলে দেখা গেছে।

এই পরিবর্তনের পেছনে কারণ হিসেবে ফেসবুক এবং টুইটারের মতো প্ল্যাটফর্মে অনলাইন কথোপকথন ক্রমবর্ধমানভাবে বিষাক্ত হয়ে ওঠাকে বিবেচনা করা হচ্ছে। 


একাত্তর/এসজে