যৌন সহিংসতা আইনে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনলো জাপান

ধর্ষণের সংজ্ঞা পরিবর্তন ও যৌনকর্মে সম্মতির বয়স বাড়িয়ে যুগান্তকারী আইন পাস করেছে জাপানের পার্লামেন্ট। এ আইনের মাধ্যমে অন্যান্য দেশের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ধর্ষণের সংজ্ঞাকে ‘জোরপূর্বক যৌন মিলন’ থেকে ‘অসম্মতিমূলক যৌন মিলন’ পর্যন্ত বিস্তৃত করা হয়েছে। 

শুক্রবার ডায়েটের উচ্চকক্ষে নতুন আইনগুলো পাস হয়েছে। এগুলো স্পষ্টভাবে আটটি পরিস্থিতির রূপরেখা দেয়, যেখানে একজন ভুক্তভোগীর পক্ষে যৌন সংসর্গে ‘সম্মতি না দেওয়ার অভিপ্রায় তৈরি করা, প্রকাশ করা বা পূরণ করা’ কঠিন।

এর মধ্যে এমন পরিস্থিতি রয়েছে যেখানে ভুক্তভোগী অ্যালকোহল বা মাদকের নেশায় মত্ত থাকে; বা সহিংসতা বা হুমকির বিষয়ে ‘ভীত বা চিন্তিত’। আরেকটি দৃশ্যকল্প ক্ষমতার অপব্যবহারের বর্ণনা দেয়, যেখানে ভুক্তভোগী প্রত্যাখ্যানের পরিণতি সম্পর্কে ‘চিন্তিত’।

সমালোচকরা বলছেন, পূর্ববর্তী আইন যৌন সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করা ব্যক্তিদের রক্ষা করতো না এবং এই ধরনের হামলা রিপোর্ট করাকে বাধাগ্রস্ত করতো। 

১৯০৭ সালে কার্যকর হওয়ার পর এই প্রথমবারের মতো জাপান যৌনকর্মে সম্মতির বয়স পরিবর্তন করেছে।

আগে, উন্নত দেশগুলোর মধ্যে জাপানের সম্মতির বয়স সর্বনিম্ন ছিল। দেশটিতে ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সী কোনো নাবালকের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করলে তখনই শাস্তি দেয়া হতো, যদি সেই ব্যক্তিটি নাবালকের থেকে পাঁচ বা তার বেশি বয়সী হয়।

এছাড়াও, সীমাবদ্ধতার সংবিধি বা ধর্ষণের রিপোর্ট করার আইনি সময়সীমা ১০ বছর থেকে ১৫ বছর করা হবে, যাতে ভুক্তভোগীদের এগিয়ে আসতে আরও সময় দেয়া হয়। সেইসাথে গোপনে কারও ভিডিও বা স্থিরচিত্র ধারণ করাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। 

তবে অ্যাক্টিভিস্টরা বলছেন, এই আইনি সংস্কার সমস্যার কেবলমাত্র একটি অংশই সমাধান করে।

টোকিওভিত্তিক হিউম্যান রাইটস নাউ-এর ভাইস-প্রেসিডেন্ট কাজুকো ইতো বলেছেন, যৌনতা এবং সম্মতি সম্পর্কে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বিরাজমান ‘বিকৃত ধারণাগুলো’ সমাধান করা উচিত।

আরও পড়ুন: দক্ষিণ কোরিয়ার বন্দরে মার্কিন পরমাণু চালিত সাবমেরিন

যৌন নিপীড়নের যেসব ভুক্তভোগী প্রকাশ্যে যায় তারাও প্রায়ই অনলাইনে হুমকি এবং বাজে মন্তব্যের মুখোমুখি হয়। 

এমনকি যদি সংস্কারগুলো কার্যকর করা হয়, তবে ভুক্তভোগীদের অবশ্যই আক্রমণ রিপোর্ট করার জন্য ক্ষমতাবান বোধ করতে হবে, কর্মীরা বলছেন।


একাত্তর/এসজে