ইসরাইলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করার দাবি সিরিয়ার

সিরিয়ার সরকার-নিয়ন্ত্রিত শহর হোমসের কাছাকাছি বিমান হামলা শুরু করেছে ইসরাইল। তবে সিরিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে বলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

রোববার সিরিয়ান পুলিশ জানিয়েছে, সিরিয়ার বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের অবশিষ্টাংশ কাউকে হতাহত না করে একটি দূরবর্তী শহরে আঘাত করেছে।

ইসরাইল সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সিরিয়ার বিমানবন্দর এবং বিমানঘাঁটিতে হামলা জোরদার করেছে। লেবাননের হিজবুল্লাহসহ সিরিয়া ও লেবাননের মিত্রদের কাছে অস্ত্র সরবরাহের জন্য ইরানের বিমান সরবরাহ লাইনের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার ব্যাহত করা এ হামলার উদ্দেশ্য। 

সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশের মধ্যাঞ্চলে ইসরাইলি ক্ষেপণাস্ত্রগুলিকে বাধা দেয় ও তাদের বেশিরভাগই ধ্বংস করে দেয়। 

সিরিয়ার সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লেবাননের রাজধানী বৈরুতের কিছু অংশের উপর দিয়ে উড়ে যাওয়া ক্ষেপণাস্ত্র হোমস শহরের আশেপাশে অবস্থানে আঘাত করেছে, যার ফলে শুধুমাত্র বস্তুগত ক্ষতি হয়েছে।

ইসরাইলের একজন সামরিক মুখপাত্র বলেছেন, যুদ্ধবিমানগুলো সিরিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা ঘাঁটিসহ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে, যেখান থেকে ইসরাইলের দিকে একটি বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছিল।

ইসরাইলি পুলিশ জানিয়েছে, দেশজুড়ে বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর, সিরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রের অবশিষ্টাংশ রাহাতে অবতরণ করেছে। এতে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

ইসরাইলি সামরিক বাহিনী বলেছে, এ হামলায় তাদের যুদ্ধবিমানগুলো অক্ষত রয়েছে। 

দেশটির সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিরিয়ায় ইরানের ক্রমবর্ধমান অনুপ্রবেশকে ধীর করার লক্ষ্যে বছরের পর বছর ধরে চলমান সংঘাতের ক্রমবর্ধমান অংশ হচ্ছে এসব ইসরাইলি হামলা।

২০১১ সালে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে সমর্থন করা শুরু করার পর থেকে সিরিয়ায় তেহরানের প্রভাব বেড়েছে।

আরও পড়ুন: জঙ্গলে হারানোর ৫৪ ঘণ্টা পর অক্ষত ফিরলো কিশোরী

হিজবুল্লাহসহ ইরানের মিত্র যোদ্ধারা এখন সিরিয়ার পূর্ব, দক্ষিণ ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল এবং রাজধানীর আশেপাশের বেশ কয়েকটি শহরতলিতে আধিপত্য বিস্তার করছে।


একাত্তর/এসজে