জেনিন ছাড়লো ইসরাইলি সেনারা, ঘরে ফিরছে ফিলিস্তিনিরা

ফিলিস্তিনের কাছ থেকে দখল করে নেয়া পশ্চিম তীরের জেনিন শহরে টানা দুদিন সামরিক অভিযান চালানোর পর সেনা প্রত্যাহার করে নিয়েছে দখলদার ইসরাইলি বাহিনী। স্থানীয় সময় বুধবার মধ্যরাতে ইসরাইলি সেনাদের বহনকারী গাড়িগুলো জেনিন ছাড়তে শুরু করে। দুদিনের সামরিক অভিযানে ১২ ফিলিস্তিনি নিহত ও বহু আহত হয়েছে। 

হামলা বন্ধ হবার পর ইসরাইলি বোমা হামলায় বিধ্বস্ত জেনিন শিবিরের বাড়ি-ঘরে ফিরে আসতে শুরু করেছে ফিলিস্তিনি শরণার্থীরা। সেই সঙ্গে নিহতদের স্মরণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে শোকসভা।

ইসরাইলের বুলেট-বোমা-ড্রোন হামলায় লন্ডভন্ড হয়ে গেছে ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের জেনিন শরণার্থী শিবির। দুদিনেই বদলে গেছে শিবিরের চেহারা। 

ইসরাইলি হামলায় শরণার্থী শিবিরে ব্যাপক ধ্বংসের চিত্র দেখা যাচ্ছে। এই শিবিরে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি থাকে। শিবিরের ভবনগুলোয় ইসরাইলি হামলায় বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। গাড়িগুলো দুমড়ে-মুচড়ে গেছে এবং মাটিতে এখানে-সেখানে ভাঙা কাচ আর বুলেটের খোসা পড়ে আছে। জেনিনে সংঘাত থামলেও ইসরাইল এখন গাজায় বিমান হামলা শুরু করেছে।

ইসরাইলি হামলায় যে ১২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, তাদের স্মরণে জানাজায় এবং এক শোক মিছিলে যোগ দেয় হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নাগরিক। 

মঙ্গলবার মধ্যরাতে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার শুরু করার পর থেকে, জেনিন ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া লোকজন পুনরায় ফিরতে শুরু করেছেন। 

বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শিবিরগুলো থেকে সঠিক তথ্য পেতে অসুবিধা হচ্ছে জাতিসংঘের। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। 

এদিকে আপাতত সেনা প্রত্যাহার করে নিলেও সন্ত্রাসবাদ নির্মূল বন্ধ হবে না বলে জানিয়েছেন ইজরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, এই মুহুর্তে আমরা মিশনটি সম্পূর্ণ করছি, তবে এটি আমাদের শেষ অপারেশন নয়। আমরা সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করে যাব।

সেনা প্রত্যাহারের মধ্যেই গাজা উপত্যাকা থেকে ইসরাইলের দিকে রকেট ছোড়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী। 

স্থানীয় সময় বুধবার ভোর রাতে ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে এই রকেট ছোড়া হয়, যা আয়রন ডোমের মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে বলেও জানিয়ছে ইসরাইলি। এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেনিনে ফিলিস্তিনের পাল্টা হামলায় এক ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন। 

এসব হামলা-পাল্টা হামলার পর ইসরাইলের সঙ্গে সবধরনের যোগাযোগ ও নিরাপত্তা সহযোগিতা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিলিস্তিন। এক বৈঠক শেষে প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের মুখপাত্র নাবিল আবু রুদেইনাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এনিয়ে এখনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি তেল আবিব। 

জেনিনে ইসরায়েলি বাহিনী অভিযান শুরু করেছিল সোমবার একটি ড্রোন হামলার মাধ্যমে। তারা বলেছিল, এই ড্রোন হামলার টার্গেট ছিলো ‘জেনিন ব্রিগেডের কমান্ড সেন্টার।’ হামাসসহ বিভিন্ন কট্টরপন্থী ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী এই জেনিন ব্রিগেডের অন্তর্ভুক্ত বলে মনে করা হয়।

এরপর যখন শত শত ইসরায়েলি সেনা জেনিন শরণার্থী শিবিরে প্রবেশ করে, তখন আরো ড্রোন হামলা চালায় ইসরাইল। শিবিরের ভেতরে সশস্ত্র ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর সাথে তাদের তীব্র লড়াই চলে। এতে তীব্র খাবার ও পানি সংকটে পড়ে জেনিন শরনার্থী শিবির। 


একাত্তর/এআর