‘সুগার ফ্রি’ আম বাজারে আনলেন পাকিস্তানি গবেষক

মধু ফল আম খেতে ভালোবাসেন না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। বাংলাদেশে থেকে শুরু করে উপমহাদেশে এখন চলছে আমের ভরা মৌসুম। বাজারে ছেঁয়ে গেছে হরেক রকম জাতের সুস্বাদু আম। দামও বেশ হাতের নাগালে। মানুষজন কিনছেনও।

কিন্তু যারা ডায়াবেটিসে ভুগছেন তাদের কি হবে? কারণ আমে রয়েছে অতিমাত্রায় শর্করা বা সুপার। ফলে তাদের জন্য আম খাওয়া অনেকটাই হারাম। কিন্তু পরিস্থিতি মানতে মেনে নিতে পারেননি পাকিস্তানের এক আম গবেষক। বাজারে এনেছেন ‘সুগার ফ্রি’ আম।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমের খবর বলছে, সুগার ফ্রি এই আমের সুগার লেভেল মাত্র ৪ থেকে ৬ শতাংশ। ফলে অনেকটা চিন্তামুক্ত হয়েই এই আমের স্বাদ নিতে পারবেন ডায়াবেটিক রোগীরা৷

পাকিস্তানের কিংবদন্তি ফল গবেষক এম এইচ পানওয়ারের নাতি গুলাম সারওয়ার উদ্ভাবন করেছেন সুগার ফ্রি আম। এই জাতের আবার তিনটি ধরনও রয়েছে। 

সোনারো, গ্লেন ও কেট- এই তিন জাতের সুগার ফ্রি আম একদিনে আসেনি। পাঁচ বছরের নিরলস গবেষণা শেষেই এই আম তৈরি করা গেছে। 

এর মধ্যে কেটের শর্করার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৪.৭ শতাংশ। বাকি সোনারো ও গ্লেনের মধ্যে শর্করার পরিমাণ ৫.৬ শতাংশ ও ৬ শতাংশ। ফলে আরামে খেতে পারবেন ডায়াবেটিক রোগীরা।

পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের তান্ডো আল্লায়ারে এম এইচ পানওয়ার নামে একটি বেসরকারি ফার্মে এই আমের চাষ হয়েছে। 

বৈজ্ঞানিক ভাবে আম চাষের প্রচলিত পদ্ধতিতে বেশ কিছু অদল বদল ঘটিয়েই এই সুগার ফ্রি এই আম ফলিয়েছেন গুলাম সারওয়ার। 

আরও পড়ুন: সালিসে প্রেমিককে তাড়িয়ে নিজেই বিয়ে করলেন চেয়ারম্যান

তিনি জানান, পাকিস্তান সরকার তার দাদাকে সিতারা-এ-ইমতিয়াজ উপাধি দিয়েছিল আম ও কলা নিয়ে তাঁর গবেষণার জন্য। 

বলেন, “দাদার মৃত্যুর পরে আমি কাজ চালিয়ে গিয়েছি এবং বিভিন্ন বিদেশি আম আনিয়ে নিয়ে তার উপরে গবেষণা চালিয়ে গিয়েছি”।’

তিনি দাবি করেন, সরকারি সাহায্য ছাড়াই ব্যক্তিগত উদ্যোগ তিনি এই পরীক্ষা চালিয়েছেন। বর্তমানে তাঁর তিনশ’ একরের ওই ফার্মেই ৪৪টি প্রজাতির আম হয়।

গুলাম সারওয়ার জানান, গাছ থেকে পাড়ার পরেও আম যাতে আরও বেশি দিন রাখা যায়, সেই চেষ্টা করেছেন তিনি। পাশাপাশি ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য আমের শর্করার মাত্রাও নিয়ন্ত্রণ করেছেন। নতুন প্রজাতির আমের ফলনেও মন দিয়েছিলেন তিনি।