ভারতের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে টানা বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪৮ জনে দাঁড়িয়েছে। রাজধানী দিল্লির বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। যমুনা নদীর পানির উচ্চতা সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছেছে। ৪৫ বছরের রেকর্ড ভেঙে যমুনার পানি ২০৭ দশমিক ৫৫ মিটার উচ্চতায় (প্রায় ৬৮১ ফুট) প্রবাহিত হচ্ছে।
এনডিটিভি ও ইন্ডিয়া টুডের খবরে বলা হয়েছে, শনিবার দিল্লির বেশ কিছু অঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে রাজধনীর অধিকাংশ মানুষ।
শনিবার সকালে দিল্লিতে যমুনা নদী ২০৭ দশমিক ৩৮ মিটার (প্রায় ৬৮০ ফুট) উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল। দিনের পরের অংশে তা ১৯৭৮ সালের রেকর্ড ২০৭ দশমিক ৪৯ মিটার উচ্চতাকেও ছাড়িয়ে যায়। এর আগে ভারতের রাজধানীতে ২০১৩ সালে ২০৭ দশমিক ৩২ মিটার উচ্চতায় যমুনা প্রবাহিত হয়েছিল।
যমুনার পানির বৃদ্ধি পাওয়ায় সব থেকে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে দিল্লির নিচু এলাকার বাসিন্দারা। এলাকাগুলোর প্রায় সব বাড়িতেই পানি ঢুকেছে। সরকারের ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে অনেকে।
দিল্লিতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতির কারণে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে রাজধানীর সবচেয়ে বড় শ্মশান। প্রিয়জনের শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে গিয়েও বিপাকে পড়ছে দিল্লিবাসী। এছাড়া বন্ধ রয়েছে অধিকাংশ স্কুল, কলেজ, দোকান ও বাজার। অনেক এলাকায় দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকট।
এই পরিস্থিতির জন্য হরিয়ানার বিজেপি সরকারকেই দায়ি করেছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীওয়াল। দিল্লিতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
কেজরীওয়ালের অভিযোগ, হরিয়ানার হাথনিকুণ্ড বাঁধ থেকে ক্রমাগত পানি ছাড়া হচ্ছে নদীতে। আর সেই কারণেই যমুনার পানির স্তর ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়ে দিল্লি জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। যমুনার অতিরিক্ত পানি উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা এবং দিল্লিতে সমান হারে ছাড়া হলে এমন পরিস্থিতি হত না।
এদিকে ভারী বৃষ্টিতে উত্তরাখণ্ডের একাধিক এলাকা নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি ৫১১টি গ্রাম বাসিন্দারা। লাকসার, হরিদ্বার, ভগবানপুরের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। হরিদ্বারে প্লাবিত এলাকাগুলোতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। হিমাচলের পরিস্থিতিরও উন্নতি হয়নি।
অন্যদিকে আসামে ১৭টি জেলায় ৬৭ হাজারেরও বেশি বাসিন্দা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্রহ্মপুত্রসহ বিভিন্ন নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। এই পরিস্থিতিতে ভুটানের কুড়িছু বাঁধ থেকে পানি ছাড়া হয়েছে। ফলে আসমে বন্যা পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভারতের আবহাওয়া বিভাগের (আইএমডি) বিজ্ঞানী সুরেন্দ্র পাল বলেছেন, ইতোমধ্যে প্রচুর বৃষ্টি হওয়ায় মাটি অত্যন্ত নরম হয়ে পড়েছে আর এর জলধারণ ক্ষমতা কমে গেছে। এতে পাহাড়ি এলাকাগুলোতে বন্যা ও ধসের সম্ভাবনা আরও বেড়েছে।
একাত্তর/আরবিএস