মণিপুরে আরও দুই নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ, পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ

ভারতের মণিপুরে দুই নারীকে যৌন নির্যাতনের ঘটনার একইদিনে মাত্র এক ঘন্টার ব্যবধানে আরও দুই নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

৪ মে মণিপুরের রাজধানী ইম্ফলের ওই ঘটনায় ১৮ মে পুলিশের কাছে অভিযোগ করা হলেও এখনও কাউকে আটক করা হয়নি। 

এদিকে, আগের ঘটনায় আরও এক অভিযুক্তসহ মোট চার জনকে আটক করেছে পুলিশ। এরইমধ্যে মূল অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন দিয়েছেন এলাকার নারীরা। 

৪ মে ভারতের মণিপুরে দুই নারীকে যৌন নির্যাতনের মূল অভিযুক্তকে আটক করার পরই তার বাড়িতে ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয় এলাকার বিক্ষুব্ধ নারীরা। 

এ তথ্য নিশ্চিত করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিরেন সিং বলেন, প্রধান অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন দিয়েছে মিরা পাইবি দলের নারী কর্মীরা। মণিপুরের সমাজ নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে। 

অন্যদিকে, মণিপুরের রাজধানী ইম্ফলের জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা হেমন্ত পান্ডে বলেছেন, যেহেতু অস্থিরতা চলছে, তাই নারীদের শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে গোটা ভারতে বিক্ষোভ শুরু হয়। এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। আর মণিপুরে নারীরা অনিরাপদ উল্লেখ করে বলেন, এই পরিস্থিতির জন্য সরকারই দায়ী। 

তারা বলেন, এটা শুধু মণিপুরের দুজন দুর্বল নারীর ওপর হামলা নয়। এটা সারা দেশের নারীদের ওপর হামলা। ভারতে তো সব ধর্ম, বর্ণের সব সংস্কৃতির শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান থাকার কথা। 

এটাই আমাদের ঐতিহ্য। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই আমরা। কোনোভাবেই এমন ঘটনা গ্রহণযোগ্য নয়। নারী অবমাননার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও বিচারের দাবি চলবে।

তাদের প্রশ্ন, সরকার কোথায় ছিলো যখন মণিপুরে তাদের দুই কন্যাকে নগ্ন করে হাঁটানো হলো? পুলিশ কোথায় ছিলো? কোথায় ছিলো প্রধানমন্ত্রীর বেটি বাচাও আন্দোলন?

আরও পড়ুন: আন্দোলনে হেরেছে, ভোটেও হারবে বিএনপি: কাদের

নির্যাতিত দুই তরুণীর একজনের মা জানিয়েছেন, নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তারা। আর কোনোদিন সেই গ্রামেও ফিরতে পারবেন না বলেও জানান তিনি। 

ওই তরুণীর মা আরও বলেন, তিনি ওই ঘটনার পর থেকে মানসিকভাবে অসুস্থ। তার অভিযোগ, শুধু মেয়ের শ্লীলতাহানিই নয়, প্রাণ হারিয়েছেন তার স্বামী ও ছেলে।

গত ৪ মে মণিপুরে কুকি সম্প্রদায়ের দুই তরুণীর ওপর যৌন নির্যাতন করে মেইতেই সম্প্রদায়ের একদল যুবক। ঘটনাটির ভিডিও ভাইরাল হবার পর তোলপাড় শুরু হয় সারা ভারতে। 


একাত্তর/আরবিএস