পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে কিন গ্যাংকে সরিয়ে দিয়েছে চীন। নিয়োগের মাত্র সাত মাসের মাথায় তাকে সরানো হলো। নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে কমিউনিস্ট পার্টির পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রধান ওয়াং ইকে, যিনি এর আগেও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, গত প্রায় এক মাস থেকে নিখোঁজ রয়েছেন কিন গ্যাং। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে তার নিখোঁজ থাকা নিয়ে নিয়মিত সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে।
কিনের দীর্ঘ সময় অন্তর্ধানের বিষয়ে চীনা সরকার নিশ্চুপ রয়েছে। আর এ নীরবতা জনমনে ব্যাপক জল্পনা সৃষ্টি করেছে।
৫৭ বছর বয়সী কিন গ্যাংকে সবশেষ জনসম্মুখে দেখা গিয়েছিল গত ২৫ জুন। এরপর তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে। কী কারণেই বা তাকে অপসারণ করা হলো সে ব্যাখ্যাও দেয়া হয়নি।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জিনহুয়ার বরাত দিয়ে বিবিসি লিখেছে, ‘চীনের শীর্ষ আইনসভা ওয়াং ইকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের পক্ষে ভোট দিয়েছে। কিন গ্যাংকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে । আর প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই সিদ্ধান্তেরে অনুমোদনের ডিক্রিতে সই করেছেন।
চীনা কমিউনিস্ট পার্টি ব্যবস্থার অধীনে, দেশটির পররাষ্ট্র নীতি একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার দ্বারা প্রণয়ন করা হয়, যিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ওই নীতি বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন।
নিখোঁজ কিনকে গত ডিসেম্বরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। তাকে চীনের প্রেসিডেন্টের জিনপিংয়ের বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে দেখা। কিনকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করার আগে ওই দায়িত্বে ছিলেন ওয়াং ই, যিনি মাত্র সাত মাসের মধ্যে আবার আগের দায়িত্বে ফিরলেন।
একমাস আগে স্বাভাবিক দায়িত্ব পালন থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর ইন্দোনেশিয়ায় একটি শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে দিতে ব্যর্থ হন কিন গ্যাং। তখন ‘স্বাস্থ্যগত সমস্যা’র কথা বলে একটা ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছিল।
কিন্তু নিখোঁজের সময় দীর্ঘায়িত হওয়া এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে কোনো বিশদ বিবরণের অভাবে গুজব ডালপালা ছড়াতে শুরু করে। এমন আলোচনাও ছড়িয়ে পড়ে যে, তাকে রাজনৈতিক বা বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্কের কারণে হয়ত শাস্তি দেয়া হচ্ছে।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদে কিনের উত্থান ছিল উল্কাপিণ্ডের গতির মতোই। তিনিই চীনের ইতিহাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদে দায়িত্ব পালন করা সবচেয়ে কম বয়সীদের একজন।
যুক্তরাষ্ট্রে দুই বছরেরও কম রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালনের পর গত ডিসেম্বরে তাকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনোনীত করা হয়। তার আগে তিনি ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র। শি জিনপিংয়ের বিদেশ সফর আয়োজনে সহায়তার কাজও করেছেন তিনি। ধারণা করা হয়, ওই সময় থেকেই কিন চীনের প্রেসিডেন্ট জিনপিংয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ পান।
একাত্তর/আরবি