মাঝসমুদ্রে দাঁড়িয়ে থাকা ক্ষুদ্রতম দেশ সিল্যান্ড

'ক্ষুদ্রতম দেশ' ও ভ্যাটিকান–শব্দ দুটি যেনো সমার্থক। তবে জেনে অবাক হবেন ৪৯ হেক্টর আয়তনের ভ্যাটিকানের চাইতেও বহুগুণ ছোট একটি দেশ আছে। বলছিলাম 'প্রিন্সিপ্যালিটি অফ সিল্যান্ড' নামের এক অণুরাষ্ট্রের কথা। 

এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি। সত্যিই তাই। বিস্তীর্ণ সমুদ্র। তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে একটি প্লাটফর্ম। নাম তার সিল্যান্ড। বিশ্বের সবচেয়ে ছোট দেশ!

মজার ব্যাপার হলো, সিল্যান্ড দেশটি আসলে সামুদ্রিক দুর্গ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মান মাইন পর্যবেক্ষণের জন্য ব্রিটেন দুর্গটি স্থাপন করে। 

ব্রিটিশ উপকূল থেকে ৬ মাইল দূরে একটি ডুবন্ত জাহাজে এর অবস্থান। ১৯৫৬ সালে পরিত্যক্ত হওয়া এই দুর্গে রয়েছে রাডার, দুটি বন্দুক এবং অ্যান্টি এয়ারক্রাফট কামান। পরে ১৯৬৭ সালে এটি দখল করে এক অবৈধ বেতার সম্প্রচারক দল। 


এই দলটিকে বিতাড়িত করেন আরেক অবৈধ বেতার সম্প্রচারক রয় বেটস। তিনিই এই সমুদ্র দুর্গকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা দেন। উকিলের পরামর্শে এটি স্থায়ী ভাবে দখল করতে নেন অভিনব পন্থা। দুর্গটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় থাকায় ব্রিটিশরা হস্তক্ষেপ করতে পারেনি। 

বিচ্ছিন্ন গ্রুপ ও চোরাকারবারি দল সিল্যান্ড দখল নেবার চেষ্টা করলেও রয় বেটস তাদের প্রতিহত করেন। দেশটির সংবিধান অনুযায়ী প্রথম রাজা হন রয় বেটস। 

আরও পড়ুন: আস্থা ভোটে হেরে পদত্যাগ করলেন সুইডিশ প্রধানমন্ত্রী

৫০ বর্গ মিটার আয়তনের এই দেশের স্থায়ী জনসংখ্যা মাত্র ৪ জন। কিন্তু বিদেশিরা বিশেষ অনুমতিক্রমে বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় সিল্যান্ডের ঝাণ্ডা উড়িয়েছে। 

সিল্যান্ডের আছে নিজস্ব জাতীয় সংগীত, ডাক টিকিট, মুদ্রা ও পাসপোর্ট। রয় বেটসের মৃত্যুর পর তার পুত্র মাইকেল বেটস দেশটির রাজা হন । 

যে কেউ চাইলে অর্থের বিনিময়ে হতে পারবেন দেশটির ব্যারন কিংবা লর্ড। এমনকি পাসপোর্টের আবেদন করে ঘুরেও আসতে পারবেন এই অণুরাষ্ট্র থেকে।


একাত্তর/এসজে