পাকিস্তানের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নতুন প্রধানমন্ত্রী আনোয়ারুল হক কাকার রোববার শপথ নেবেন। পাকিস্তানের সম্ভাব্য সরকার প্রধানের দৌড়ে খুব একটা আলোচনায় ছিলেন না তিনি। তবে, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব তাকে দেয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে সব মহল।
২০১৮ সালে বেলুচিস্তান থেকে স্বতন্ত্র সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হন আনোয়ারুল হক কাকার। তিনি প্রবাসী ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সিনেটের স্থায়ী কমিটির চেয়ারপার্সন। একই সঙ্গে ব্যবসায়িক উপদেষ্টা কমিটিসহ বিভিন্ন কমিটির সদস্য হিসেবেও কাজ করেছেন।
আনোয়ারুল এমন এক সময়ে পাকিস্তানের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিচ্ছেন যখন দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো নয়। ইমরান খানকে গ্রেফতারের পর থেকে উত্তেজনাও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে, বেলুচিস্তান থেকে আসা নতুন প্রধানমন্ত্রী ভারতের প্রতিবেশী দেশের দায়িত্ব কীভাবে সামলাবেন তা দেখতে উদগ্রীব হয়ে হয়ে আছে গোটা বিশ্ব।
এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, পাকিস্তানের তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার-উল-হক কাকার কে, যিনি কঠিন পরিস্থিতিতে এত বড় দায়িত্ব পেয়েছেন? সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে কাকারের সম্পর্ক খুবই ভালো। আর এই কারণেই আনোয়ারকে ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আফগানিস্তানের সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত জেলা কিলা সাইফুল্লাহতে একটি মধ্যবিত্ত পশতুন পরিবারে ১৯৭১ সালের ১৫ মে জন্ম নেন কাকার। কালাত রাজ্যের রাজনীতির সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যরা যুক্ত ছিলেন। ১৯৪৮ সালে এই রাজ্য পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়।
আনোয়ার-উল-হক বেলুচিস্তান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পেশা হিসাবে বেশে নেন শিক্ষকতা। ২০০৮ সালে শিক্ষকতা ছেড়ে প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নেন কাকার। তিনি পিএমএল-কিউ দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিলেও পিপিপির প্রার্থী নাসির আলি শাহের কাছে পরাজিত হন।
পরবর্তীতে তিনি পিএমএল-এন দলে যোগ দিয়ে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী সানাউল্লাহ জেহরির মুখপাত্র হিসেবে ৩ বছর কাজ করেন।২০১৮ সালে তিনি জেহরির বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটে নেতৃত্ব দেন। যার ফলে জেহরি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং নতুন মুখ্যমন্ত্রী হন আবদুল কুদ্দুস বিজেনজো।
একই বছর তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সিনেটর হন। কিছুদিন পরেই তিনি সৈয়দ সাইদ আহমেদ হাশমীর সহযোগিতায় বিএপি প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর বিএপি বেলুচিস্তানে প্রাদেশিক সরকার গঠন করে। তখন থেকে তিনি সিনেটে বিএপির সংসদীয় নেতা, প্রতিনিধি ও প্রধান মুখপাত্রের ভূমিকা পালন করে আসছেন।
আনোয়ারুল কাকার ২০১৮ সালে বেলুচিস্তান থেকে ৬ বছরের জন্য সিনেটর নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালের মার্চে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। তিনি ২০২০ সালে জোরপূর্বক ধর্ম পরিবর্তন প্রতিরোধ সংক্রান্ত একটি সংসদীয় প্যানেলেরও প্রধান ছিলেন।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানে চীনা প্রকৌশলীদের কনভয়ে হামলায় নিহত ১১
এ বছরের মার্চের শেষের দিকে ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটের আগে তার প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করেন কাকার। বিএপি ছিল ইমরানের দল তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) জোট সরকারের অন্যতম শরীক।
পাশাপাশি পাকিস্তান মুসলিম লীগ কায়েদ ও মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট পাকিস্তান নামের ২টি দলও তাদের সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়, যা পরবর্তীতে ইমরানের অনাস্থা ভোটে হেরে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত।
একাত্তর/এসজে