হিমাচলে বন্যা ও ভূমিধ্বসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬০

ভারতের হিমাচল প্রদেশে ভারী বৃষ্টি, বন্যা এবং ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬০ জনে দাঁড়িয়েছে। সেখানে এখনও অনেক মানুষ নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। জনপ্রিয় এই পর্যটন এলাকাটিতে গত সপ্তাহ থেকেই ভারী বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। রাজ্যের রাজধানী সিমলার সামার হিল, কৃষ্ণনগর এবং ফাগলিতে ভূমিধসে মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে, উত্তরাখণ্ডে মারা গেছেন তিন জন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে মঙ্গলবার হিমাচলে যান রাজ্য মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিংহ সুখু। ধসের কারণে যা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা মেরামতের দায়িত্ব সরকার নেবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। এছাড়া পাঞ্জাব ও আসামে বন্যা পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। দিল্লিতে যমুনার পানি বাড়ছে।

হিমাচল প্রদেশজুড়ে গত চার দিনের টানা বৃষ্টির পর পাথর ও গাছের নিচে চাপা পড়ে বাড়ি-ঘর, রাস্তায় দেখা দেয় ফাটল, ভেঙে পড়ে বিদ্যুৎ ও রেল যোগাযোগ। 


অর্ধশতাধিক লাশ উদ্ধারের পর এখনও চলছে অভিযান। প্রিয়জনকে জীবিত না হোক, কমপক্ষে লাশটা খুঁজে পেতে আশায় বুক বেধে আছেন স্বজনহারারা। ঠিক কতোজন নিখোঁজ রয়েছে তা নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। তবে আশঙ্কা, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

মঙ্গলবার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে দুর্গত এলাকায় যান মুখ্যমন্ত্রী রাজ্য মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিংহ সুখু। এ সময় ধসের কারণে যা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা মেরামতের দায়িত্ব সরকার নেবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। হিমাচলের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পর সব সরকারি এবং বেসরকারি স্কুল-কলেজ বুধবার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। বৃহস্পতিবারও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি বন্ধ থাকতে পারে।

এদিকে, প্রবল বৃষ্টির পর উত্তরাখণ্ডের পৌরিতে ভয়ঙ্কর ধস নেমেছে। এর ফলে অন্ততপক্ষে তিনজন মারা গেছেন। চার ধাম যাত্রা পরপর দুইদিন স্থগিত রাখা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে ঋষিকেশে। একদিনে ৪২, সেন্টিমিটার বৃষ্টি হয়েছে এখানে। প্রবল বৃষ্টির পর জোশীমঠে বিভিন্ন রাস্তা ও বাড়িতে ফাটল বেড়েছে। পাঁচটি পরিবারকে ত্রাণশিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। 


গত জানুয়ারিতে জোশীমঠে বিভিন্ন বাড়িতে ফাটল দেখা দেয়। প্রচুর বাড়ি ভেঙে দেয়া হয়। প্রচুর পরিবারকে ত্রাণশিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়। তখনই বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছিলেন, জোশীমঠ বসে যাচ্ছে। জোশীমটের কাছে হেলাংয়ে বাড়ি ভেঙে পড়ে তিনজন আহত হয়েছেন। কয়েকজন এখনও ধ্বংসস্তূপের তলায় আছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

আসামের বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যার জলের তলায় চলে গেছে। বন্যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ৭৫ হাজার মানুষ। ব্রক্ষ্মপুত্রসহ চারটি নদীর জল বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। দরং, শিবসাগর, চিরাং, ধেমাজির অবস্থা খারাপ। 

অন্যদিকে, দিল্লিতে যমুনার পানি আবার বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। কিছুদিন আগেই যমুনার বন্যায় দিল্লির নিচু এলাকাগুলো ভেসেছে। লালকেল্লার পাশে যমুনার পানি ঢুকে পড়েছে। আগ্রায় তাজমহলের দেয়ালে পৌঁছে গেছে যমুনার পানি। 


একাত্তর/এসি