মরক্কোতে প্রাণহানি দুই হাজার ছাড়ালো

আফ্রিকার দেশ মরক্কোতে স্মরণকালের সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়ে গেছে।  এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও দুই হাজার মানুষ।  

শুক্রবার রাত ১১টার দিকে মরক্কোর মধ্যাঞ্চলে ৬ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।

ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের অ্যাটলাস পর্বতমালা ঘেঁষা প্রদেশ আল হাউজের পার্বত্য শহর ইঘিলে, ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৮ দশমিক ৫ মিটার গভীরে। খবর বিবিসির।   

মরক্কোর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর থেকে এ পর্যন্ত দুই হাজার ১২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদিকে আহত দুই হাজারের মধ্যে ১৪০০ জনেরও বেশি মানুষের অবস্থা গুরুতর। 

মরক্কোয় ৬ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প। ছবি: বিবিসি

ছয় দশকের সবচেয়ে প্রাণঘাতী এ ভূমিকম্পে হতাহতের ঘটনায় রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ দেশটিতে তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছেন। 

এছাড়াও দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় ধ্বংসপ্রাপ্ত আবাসন পুনর্নির্মাণের জন্য একটি জরুরি পুনর্বাসন এবং সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য একটি কমিশন গঠনের পাশাপাশি দুর্দশাগ্রস্ত ব্যক্তি ও আহতদের উদ্ধারের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

মরক্কোয় ৬ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প। ছবি: বিবিসি

ভূমিকম্পে বাড়িঘর হারিয়ে অনেকেই টানা দ্বিতীয় দিনের মতো খোলা আকাশের নিচে রাত কাটিয়েছেন। অনেক এলাকায় ওষুধ ও খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। 

দেশটির আল-হাউজ, মারাকেশ, কোয়ারজাজাতে, আজিলাল, চিচাওয়া ও টারোডেন্ট এলাকা রীতিমতো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। 

পর্যটন নগরী মারাকেশে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ শহরের অধিকাংশ ভবন পুরোনো এবং জাতিসংঘ ঘোষিত একাধিক বিশ্ব ঐতিহ্যের নিদর্শন রয়েছে। ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে সেখানকার অসংখ্য বাড়ি-ঘর ধসে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে অসংখ্য মানুষ।

মরক্কোয় ৬ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প। ছবি: বিবিসি

আহতদের উদ্ধারে চলছে বিশেষ অভিযান। তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।  

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে দুর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলোতে। উদ্ধারকারীদের সেখানে পৌঁছতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।

মরক্কোয় ৬ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প। ছবি: বিবিসি

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) বলছে, ছয় দশকের বেশি সময়ের মধ্যে উত্তর আফ্রিকার এই অংশে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প ছিল এটি।

জাতিসংঘের পাশাপাশি স্পেন, ফ্রান্স, ইসরাইল, আলজেরিয়াসহ আরও একাধিক দেশ জানিয়েছে, তারা মরক্কো সরকারকে উদ্ধার প্রচেষ্টায় সহায়তা করতে প্রস্তুত। এরইমধ্যে অনেক দেশের প্রতিনিধি দল মরক্কোয় পৌঁছেছে।