মরক্কো শক্তিশালী ভূমিকম্প হওয়ার জায়গা নয়

মরক্কোর মধ্যাঞ্চলে ১৯০০ সালের পর এই প্রথম আঘাত হানলো ৬ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প। স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত ১১টার দিকের ওই ভূমিকম্পে এখনো পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) বলছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল মারাকেশ শহর থেকে ৭১ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এটলাস পর্বতমালা এলাকার ১৮ দশমিক ৫ কিলোমিটার গভীরে। খবর বিবিসির।

ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশের নিচে থাকা দুই টেকটোনিকে প্লেটের সংঘর্ষ থেকেই এই ভূমিকম্পের উৎপত্তি।

মনে করা হচ্ছে এই অঞ্চলের ভূ-অভ্যন্তরে প্রতিনিয়ত পরিবর্তনের ফলে অ্যাটলাস পাহাড়ে যে ধাক্কা লাগছে তার সাথে এই ভূমিকম্পের সম্পর্ক আছে। কিন্তু মরক্কো আসলে এরকম শক্তিশালী ভূকম্পন হওয়ার জায়গা নয়।

এই অঞ্চল অত্যন্ত ধীরগতির (বছরে ৪ মিলিমিটার)। ভূতাত্ত্বিক ভাষায় এই ‘গাড়ি দুর্ঘটনার’ এলাকা থেকে বেশিরভাগ ভূমিকম্প প্রবণ এলাকাগুলো হল ভূমধ্যসাগরের আরও পূর্বে ইতালি, গ্রীস থেকে তুরস্কের দিকে।

ইতিহাস বলছে, শুক্রবার রাতে ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল যে এলাকা, তার আশেপাশে ৫০০ কিলোমিটারের মধ্যে ১৯০০ সালের পর কখনোই ছয় মাত্রার উপরে ভূমিকম্প দেখা যায় নি।

Morocco-earthquake1

তাই এই অভিজ্ঞতার সঙ্গে অপরিচিত থাকার একটা প্রভাব তো পড়েছেই। এখানকার অধিবাসীদের মধ্যে খুব কম সংখ্যকেরই ভূমিকম্পের কোন স্মৃতি আছে, ফলে সেরকম প্রস্তুতিও থাকার কথা না।

এছাড়া বেশিরভাগ ভূমিকম্প, যেগুলো রাতে আঘাত হানে, দেখা যায় সেগুলোতে মৃতের সংখ্যা অনেক বেশি থাকে। কারণ মানুষ সাধারণত এই সময়টায় ধ্বসে পড়া ভবনের ভেতরে অবস্থান করে।

ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে তাদের মডেল দিয়ে অনুমান করে যে এ ধরণের দুর্যোগে কি পরিমাণ হতাহত ও অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। আর তাদের মডেল বলছে মৃতের সংখ্যা অন্তত পাঁচ হাজারে গিয়ে ঠেকতে পারে।

ফলে মরক্কোয় ভূমিকম্পের পর বর্তমান হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে এবং ভূমিকম্পের দ্বিতীয় ধাক্কার সম্ভাবনাও আছে। হিসাব অনুযায়ী ধারণা করা হয় দ্বিতীয় ধাক্কা প্রধান ভূমিকম্পের চেয়ে ১ মাত্রা কম শক্তিশালী হয়ে থাকে।

কিন্তু এর চেয়েও ছোট কম্পনে এরইমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

জাতিসংঘ বলছে ভূমিকম্পে মারাক্কেশের অন্তত ৩ লাখ লোক ক্ষতির শিকার হয়েছেন। সংস্থাটি মরক্কো সরকারের সাথে মিলে উদ্ধার সহায়তা করার কথা জানিয়েছে। উদ্ধারকাজ এখনো চলমান, কিন্তু ধ্বংসস্তুপের ভেতরে উদ্ধার কাজ চালাতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে উদ্ধারকর্মীরা।