মণিপুরের মর্গে পড়ে রয়েছে দাবিহীন ৯৬টি মরদেহ

ভারতের মণিপুরের জাতিগত সহিংসতায় পৌনে দুইশ মানুষের প্রাণহানির ঘটনার মধ্যে এখনো মর্গে পড়ে রয়েছে ৯৬টি মরদেহ। এসব মরদেহের এখনও কোনো দাবিদার মেলেনি।

সাম্প্রতিক ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যটিতে সহিংসতা নিয়ে শুক্রবার মণিপুর পুলিশের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে বলে খবর দিয়েছে আনন্দবাজার পত্রিকা।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত সাড়ে চার মাসের সহিংসতায় মৃত্যুর সংখ্যা ১৭৫ ছুঁয়েছে। এর মধ্যে ৯৬ জন নিহতের দেহ শনাক্ত করাই যায়নি। আহত এক হাজার ১১৮ জন।

আর সহিংসতা কবলিত এলাকাগুলি থেকে নিখোঁজ হয়েছেন ৩৩ জন। সহিংসতায় পাঁচ হাজার ১৭২টি অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

এরমধ্যে চার হাজার ৭৮৬টি বাড়ি। এছাড়া সরকারি দফতর, ধর্মস্থানসহ আরও ৩৮৬টি স্থাপনা রয়েছে।

পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর তল্লাশি অভিযানে ৩৬০টি বাঙ্কার ধ্বংস করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সহিংসতার মধ্যেও এবার মণিপুর থেকে আসাম রাইফেলস সরানোর দাবিতে মেইতেই সংগঠনগুলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংহের দ্বারস্থ হয়েছে বলে আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

পত্রিকাটি লিখেছে, মেইতেইদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনী ধারাবাহিকভাবে কুকিদের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে। মেইতেই জনগোষ্ঠীর নাগরিক সংগঠনগুলি যৌথ মঞ্চ ‘কোঅর্ডিনেটিং কমিটি অন মণিপুর ইন্টিগ্রিটি’ বা ‘কোকোমি’ প্রতিনিধিদল বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে দেখা করে মণিপুর থেকে আসাম রাইফেলস প্রত্যাহারের দাবি তুলেছে।

চলতি সপ্তাহের গোড়া থেকে মণিপুর পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী গোষ্ঠী হিংসার সময় লুট হওয়া সরকারি অস্ত্র উদ্ধারের জন্য অভিযান শুরু করেছে।

গত মে মাসের শুরুতে জাতিগত সংঘর্ষে পুড়ছে মণিপুর। সংখ্যাগরিষ্ঠ মেইতেই ও সংখ্যালঘু কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষ থামছেই না।

এরই মধ্যে অগ্নিগর্ভ মণিপুরে দুই কুকি নারীকে নগ্ন করে হাঁটানোর একটি ভাইরাল ভিডিও ঘিরে উত্তাল হয়ে ওঠে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চল।