আমেরিকাতে স্থগতি হলো সব মৃত্যুদণ্ডের রায়

বিশ্বের বহু দেশ থেকেই বিচার ব্যবস্থায় মৃত্যুদণ্ডের বিধান উঠে গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই দাবি প্রকট হয়ে ওঠে যুক্তরাষ্ট্রেও। গুটিকয়েক কট্টরপন্থী ছাড়া দেশটির সব নাগরিকরাই চান মৃত্যুদণ্ড বন্ধ হোক। অবশেষে সেই দাবির প্রতি সাড়া দিয়েছে বাইডেন প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) আমেরিকার সবগুলো মৃত্যুদণ্ডের রায়ে সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করেন দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল মেরিক গারল্যান্ড। এর আগে আমেরিকার বিচার বিভাগীয় দপ্তর মৃত্যুদণ্ড নিয়ে পর্যালোচনা করে তাদের মতামত অ্যাটর্নি জেনারেলকে জানিয়ে দিয়েছে।

এক বিবৃতিতে তিনি (গারল্যান্ড) বলেন, সংবিধানে থাকা আইনের সুযোগই শুধু দেয়া হচ্ছে না। সেই সঙ্গে তাদের বিচার স্বচ্ছ ও মানবিকভাবে করা হচ্ছে।

তিনি জানান, বর্তমানে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়ার পদ্ধতিগুলো তিনি পর্যালোচনা করেছেন। কোনও নিরপরাধ ব্যক্তির যাতে মৃত্যুদণ্ড না সেই বিষয়ে উদ্বেগও জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: যৌনশিক্ষা দিতে সন্তানদের সঙ্গে পর্ন দেখেন মা!

প্রসঙ্গত, বর্তমানে ৪৬ বন্দির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ স্থগিত রয়েছে। এদের মধ্যে ২০ জন শ্বেতাঙ্গ, ১৮ জন কৃষ্ণাঙ্গ, সাতজন লাতিন ও একজন এশিয়ান। গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে এ বছরের গোড়ায় ট্রাম্প সরকারের বিদায়ের আগে পর্যন্ত আমেরিকায় ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।

উনবিংশ শতাব্দীর সময় থেকে আর কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্টের আমলে এত অল্প সময়ে এতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়নি।

ক্ষমতায় আসার আগে নির্বাচনী প্রচারে বাইডেন দাবি করেছিলেন তিনি ক্ষমতায় এলে মৃত্যুদণ্ডে রদে আইন করার দিকে অগ্রসর হবেন। এবার মৃত্যুদণ্ড সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত থেকে পরিষ্কার, সম্ভবত সেদিকেই এগুতে চলেছে আমেরিকা।


একাত্তর/আরএ