সেই রুশ নৌবহর প্রধানকে জীবিত দেখা গেলো!

গেলো সপ্তাহে রুশ অধিকৃত ক্রিমিয়া উপদ্বীপে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালায় ইউক্রেন। সেই হামলার পরপর কিয়েভ দাবি করে, ক্রিমিয়াতে রুশ নৌবাহিনীর সদর দফতরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে তারা মস্কোর বাহিনীর এক অধিনায়ক ও ৩৩ জন কর্মকর্তাকে হত্যা করেছে।

ইউক্রেনের বিশেষ বাহিনী সোমবার জানিয়েছে, সেভাস্তোপল বন্দরে রাশিয়ার ব্ল্যাক সি ফ্লিটের সদর দপ্তরে গত সপ্তাহে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্রিমিয়ায় মস্কোর শীর্ষ অ্যাডমিরালসহ আরও ৩৩ জন অফিসারকে তারা হত্যা করেছে। অবশ্য ইউক্রেনের এই দাবি সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেনি রাশিয়া।

কিন্তু, একদিন পরই সবাইকে অবাক করে সেই কর্মকর্তা, রাশিয়ার ব্ল্যাক সি নৌবহরের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ভিক্টর সোকোলভকে একটি অনুষ্ঠানে দেখা গেছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশ করা এক ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, সোকোলভসহ আরও এক জ্যেষ্ঠ নৌসেনা কর্মকর্তা একটি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সার্গেই শোইগুর সঙ্গে কথা বলছেন।

ভিডিওটি রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেখানো হয়েছে। অথচ, ইউক্রেনের বিশেষ বাহিনী দাবি করেছে যে, তারা সেভাস্তোপল বন্দরে রাশিয়ার ব্ল্যাক সি ফ্লিটের সদর দফতরে গত সপ্তাহে একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্রিমিয়ায় শীর্ষ রুশ অ্যাডমিরালসহ ৩৩ জন কর্মকর্তাকে হত্যা করেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ক্রিমিয়ায় হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে ইউক্রেন। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে রয়টার্স অ্যাডমিরাল ভিক্টর সোকোলভের মৃত্যুর বিষয়ে প্রশ্ন করলেও তারা কোনো উত্তর দেয়নি। সোকোলভ কৃষ্ণ সাগরের নৌবহরের কমান্ডার এবং রাশিয়ার সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ নৌ কর্মকর্তাদের অন্যতম।

ইউক্রেনের 'স্পেশাল ফোর্স' তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে জানায়, রুশ কৃষ্ণ সাগর নৌবহরের সদর দপ্তরে চালানো হামলায় ৩৪ কর্মকর্তা নিহত হন, যাদের মধ্যে আছেন নৌবহরের রুশ কমান্ডার। আরও ১০৫ জন আহত হয়েছেন। সদর দপ্তরটি এমন ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে একে আর মেরামত করা সম্ভব হবে না।

Russia

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ের প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে শোইগু বলেছেন, সেপ্টেম্বরে ১৭ হাজার ইউক্রেনিয় সেনা নিহত হয়েছেন এবং সাতটি আমেরিকান ব্র্যাডলি যুদ্ধযানসহ দুই হাজার সাতশ’র বেশি সমরাস্ত্র অস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি বলেন, ইউক্রেনের বড় ধরনের সেনা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

শোইগু আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীকে আরও অস্ত্রের যোগান দিয়ে যাচ্ছে। আর কিয়েভ সরকার সেই সব অস্ত্র অপ্রশিক্ষিত সেনাদের হাতে তুলে দিয়ে বোকার মতো যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠিয়ে দিচ্ছে। এসব কারণে ইউক্রেনিয় সেনাবাহিনীতে হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে।

ইউক্রেন পাল্টা আক্রমণ শুরু করলেও, তেমন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। কিছু গ্রাম উদ্ধার করতে পারলেও রাশিয়া এখন দখল করে নেয়া শহর ও এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। জাতিসংঘের হিসাবে, ইউক্রেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ভূখণ্ডের প্রায় সাড়ে ১৭ শতাংশ মস্কো নিয়ন্ত্রণ করে।