পাকিস্তানে দুটি প্রদেশে আলাদা আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬ জনে। আহত হয়েছে অন্তত শতাধিক মানুষ।
ডন ও এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার দক্ষিণ-পশ্চিমের প্রদেশ বেলুচিস্তান ও উত্তর-পশ্চিমের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে।
এদিন বেলুচিস্তান প্রদেশের মাস্তুং জেলায় ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে আয়োজিত একটি মিছিলে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ৫২ জনের মৃত্যু হয়। আহত হয় অর্ধশতাধিক মানুষ।
ওই হামলার কয়েক ঘণ্টা পরে, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের হাঙ্গু শহরের একটি মসজিদে আরেকটি বিস্ফোরণে কমপক্ষে চারজন নিহত এবং ১২ জন আহত হয়।
সিটি স্টেশন হাউস অফিসার মোহাম্মদ জাভেদ লেহরি বলেন, মাস্তুং জেলার আল-ফালাহ রোডের মদিনা মসজিদের কাছে যখন ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে মানুষ জড়ো হতে শুরু করে, ঠিক সে সময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
তিনি আরও বলেন, বিস্ফোরণটি ছিল ‘আত্মঘাতী’। ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশের (ডিএসপি) গাড়ির পাশে আত্মঘাতী হামলাকারী বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়।
দেশটির সহকারী কমিশনার এক বিবৃতিতে বিস্ফোরণটিকে ‘বিশাল’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘মানুষ মদিনা মসজিদে জড়ো হওয়ার পরে একটি মিছিলে অংশ নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলো, তখনই বিস্ফোরণ ঘটে।’
মাস্তুংয়ের ডিএসপি নওয়াজ গিশকোরি, যিনি ওই মিছিলের দায়িত্বে ছিলেন, তিনিও নিহত হয়েছেন।
আফগানিস্তান এবং ইরানের মধ্যে, বেলুচিস্তান হলো পাকিস্তানের বৃহত্তম প্রদেশ। অঞ্চলটিতে তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) বা পাকিস্তানি তালেবান এবং ইসলামিক স্টেট (আইএস) গ্রুপসহ বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সক্রিয়। ধারণা করা হচ্ছে টিটিপি এ হামলা চালিয়েছে।
যদিও এ হামলার দায় অস্বীকার করেছে তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, এই ধরনের হামলা তাদের নীতি বিরোধী।
সংগঠনটি খাইবার পাখতুনখোয়া হামলারও নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ‘মসজিদ, স্কুল এবং জনসমাবেশ আমাদের লক্ষ্যবস্তুর অংশ নয়।’
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এরইমধ্যে আহতদের হাসপাতালে নেয়া হয়েছে এবং আশেপাশের এলাকায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আনোয়ারুল হক কাকার মাস্তুং হামলার নিন্দা জানিয়েছেন এবং বলেছেন, সরকার দেশ থেকে সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করতে বদ্ধপরিকর।
পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশন বলেছে, এসব হামলা অগ্রহণযোগ্য। যারা এই জঘন্য হামলার জন্য দায়ি তাদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনা হবে।
এরইমধ্যে তদন্তে নেমেছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে বেলুচিস্তান জুড়ে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।