ছারপোকার উৎপাতে অতিষ্ঠ ফ্রান্স, বাড়ছে হিস্টিরিয়ার ঝুঁকি

বেডবাগ বা ছারপোকার উৎপাতে অতিষ্ঠ ফ্রান্সবাসী। ছোট্ট এই পোকাটি রীতিমতো জাতীয় আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। সিনেমা হল, হাসপাতাল, ট্রেনের পাশাপাশি এবার প্যারিসের স্কুলগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে ছারপোকা। 

এ সমস্যা সমাধানে ফ্রান্সের স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও পরিবহন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা স্থানীয় সময় শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৈঠক করছেন। ছারপোকার উৎপাত বেড়ে যাওয়ার প্রকৃত কারণ ও এ পরিস্থিতির সঠিক চিত্র তুলে ধরতেই এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। খবর বিবিসির।

কীটতত্ত্ববিদ এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ফ্রান্সে নিঃসন্দেহে ছারপোকার উত্থান ঘটেছে। তবে অনেকক্ষেত্রে দেখা গেছে ছারপোকা নিয়ে অহেতুক আতঙ্ক বেড়েছে। এর ফলে হিস্টিরিয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

হিস্টিরিয়াগ্রস্ত ব্যক্তি প্রায়ই কোনো কিছুতে অতিরিক্ত ভয় পেয়ে আত্মনিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। অনেকের মধ্যে এ রোগ দেখা দিতে পারে বলেও আশঙ্কা তাদের।  

ছারপোকার উৎপাতে অতিষ্ঠ ফ্রান্স। ইমেজ- থটকো।

কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক ওয়েবসাইট ব্যাডবাগস ডট এফআর -এর প্রতিষ্ঠাতা নিকোলাস রাউক্স দে বেজিউক্স বলেন, তার কাছে ছারপোকা নিয়ে আসা চারটির মধ্যে তিনটি অভিযোগই এসেছে বাড়ি মালিকদের কাছ থেকে। পরে দেখা গেছে সমস্যাগুলো ছারপোকার জন্য হয়নি। 

কীট-নিয়ন্ত্রক রোমেন মোর্জাডের্ক ওউয়েস্ট-ফ্রান্স সংবাদপত্রকে বলেছেন, ৯৯ শতাংশ ঘটনায় দেখা গেছে, হ্যাঁ সেখানে নানা ধরনের কালো পোকামাকড় রয়েছে, কিন্তু না, এগুলো ছারপোকা নয়।

এদিকে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছারপোকা নিয়ে যে শিরোনাম প্রাধান্য পেয়েছে তাতে শঙ্কিত ফরাসি সরকার। 

ছারপোকার উৎপাতে অতিষ্ঠ ফ্রান্স। ইমেজ- টেলিগ্রাফ।

ফরাসি মন্ত্রীরা আশঙ্কা করছেন, এতে প্যারিসের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং পর্যটন শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে আগামী বছরের অলিম্পিকের সময় এর প্রভাব পড়তে পারে।

বুধবার দেশটির পরিবহণ মন্ত্রী ক্লেমেন্ট বিউন বলেছেন, মেট্রো এবং ট্রেনে প্রায় ৫০টি ছারপোকা দেখার তথ্য পাওয়া গেছে, অথচ একটিও যাচাই করা হয়নি। 

তিনি বলেন, সমস্যাটিকে খুব গুরুত্ব সহকারে নেয়া দরকার। এটিকে অস্বীকার করা যাবে না এবং এটি হিস্টিরিয়া নয়।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ফ্রান্সজুড়ে কীট-নিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলো ছারপোকা বৃদ্ধির তথ্য নিশ্চিত করেছে৷ 

ছারপোকার উৎপাতে অতিষ্ঠ ফ্রান্স। ইমেজ- টেলিগ্রাফ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রীষ্মের ছুটির পরে সবসময়ই ছারপোকা বৃদ্ধি পায় এবং প্রতি বছর এটি আরও বড় আকার ধারণ করছে ।

এরইমধ্যে ফ্রান্সের সিনেমা হল, ট্রেন, হাসপাতাল এবং স্কুলেও ছারপোকা ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। সামাজিক মাধ্যমে মানুষ উদ্বেগ জানাচ্ছে। যদিও ইন্টারনেটে প্রচারিত অনেক ভিডিওতে দেখা গেছে, ওইসব পোকামাকড় ছারপোকা নয়। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জনসাধারণকে আশ্বস্ত করার জন্য একটি ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে, এবং একইসাথে এ সমস্যা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে। পরিস্থিতি সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হলে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের প্রয়োজন।

ছারপোকা হচ্ছে সাইমেক্স গণের অন্তর্ভুক্ত এক জাতের পোকা যারা খাদ্য হিসেবে মানুষের রক্ত গ্রহণ করে। সাধারণত রাতে এই পোকার আক্রমণ বেশি হয়। এই পোকার কামড়ের ফলে ত্বকে ফুসকুড়ি, মানসিক প্রভাব এবং অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। 

এ পোকার কামড়ের ফলে সৃষ্ট লক্ষণ প্রকাশ পেতে কয়েক মিনিট থেকে কয়েকদিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ত্বকের উপরিভাগের লক্ষণের পাশাপাশি চুলকানিও লক্ষ্য করা যায়। কিছু ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তির জ্বর হতে পারে বা ক্লান্তি অনুভব করতে পারেন।