ইসরাইলি সেনাদের হামলায় গাজা উপত্যাকার হাসপাতালগুলোর অবস্থা ‘বর্ণনাতীত’ বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
বোমা হামলার তীব্রতার কারণে নিহতদের আত্মীয়রা জানাজা নামাজের ব্যবস্থা করতে পারেনি বলে আল জাজিরার সাংবাদিক ইউমনা এলসাইদ। যিনি গাজা শহরের শিফা হাসপাতাল থেকে জানিয়েছেন, চিকিৎসা সেবার পরিস্থিতি ভয়াবহ।
এলসাইদ বলেন, গাজার সমস্ত হাসপাতালের পরিস্থিতি সত্যিই বর্ণনাতীত। শিফা হাসপাতাল, পুরো উপত্যাকার বৃহত্তম হাসপাতাল। কিন্তু মৃতদেহ এবং আহত মানুষের সংখ্যা হাসপাতালের ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি হয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, মর্গ মৃতদেহে পরিপূর্ণ। কিছু পরিবার তাদের মৃত আত্মীয়দের নিয়ে গেছে যাতে মর্গে নতুন মরদহে আসতে পারে। বোমা হামলার তীব্রতার কারণে কোনো জানাজাও করা হয়নি।
এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গাজার সংঘাতপূর্ণ এলাকায় সাহায্য পৌঁছে দিতে ‘মানবিক করিডোরের’ আহ্বান জনিয়েছেন। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ গাজায় জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। ইউনিসেফও একই ধরনের করিডোর তৈরির আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে চলমান যুদ্ধের নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক বলেছেন, গাজায় জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধ করে ইসরাইল আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গাজার ১৩টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ইসরাইলি বাহিনী হামলা করে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। আল জাজিরার কাছে যে ভিডিও ফুটেজ আছে তাতে দেখা গেছে, ইসরায়েলি বিমান হামলায় আহত শিশুদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার সকালে গাজার হাসপাতালে আহত শিশুদের ফিলিস্তিনি অ্যাম্বুলেন্সে এবং প্রাপ্তবয়স্কদের অস্থায়ী স্ট্রেচারে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্যও ফুটেজে উঠেছে।