ইসরাইলি হামলায় ৪৪৭ ফিলিস্তিনি শিশু নিহত

ইসরাইলের অব্যাহত বিমান হামলায় কার্যত মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে গাজা উপত্যকা। গেলো ছয় দিনে গাজায় ৪৪৭ জন শিশু ও ২৪৮ জন নারীসহ নিহত হয়েছে অন্তত ১৪১৭ জন। আহত হয়েছে ৬২৬৮ ফিলিস্তিনি। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।  

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। 

হামলা-পাল্টা হামলায় গাজা এখন রণক্ষেত্র। জাতিসংঘ বলছে, গাজায় তিন লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। জীবন বাঁচাতে বাড়িঘর ছেড়ে পালাচ্ছে নারী-শিশুসহ অধিকাংশ বাসিন্দা। 

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছে, ইসরাইলের অবরোধের কারণে খাবার ও পানি ফুরিয়ে যাওয়ায় গাজার পরিস্থিতি এখন ‘ভয়াবহ ’।

ইসরাইলি বিমান হামলায় ধ্বংসের পর নিজেদের আবাসস্থলের পরিণতি দেখছেন গাজাবাসী। ইমেজ: এএফপি

এদিকে গাজার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে হাসপাতালগুলো। তাদের এখন শুধু জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। স্রোতের মতো আসছে আহত মানুষ। ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীও ফুরিয়ে আসছে। চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন ডাক্তাররা।

ইসরাইল বলছে, তাদের জিম্মি নাগরিকদের মুক্তি না দিলে গাজায় বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস  সরবরাহ করা হবে না। 

শাতি শরনার্থী ক্যাম্পের একটি ধসে যাওয়া বাড়ি। ইমেজ: রয়টার্স

অন্যদিকে ইসরাইলি হামলা অব্যাহত থাকলে জিম্মিদের মুক্তি নিয়ে আলোচনা হবে না বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। লড়াই বন্ধ হলেই কেবল বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। 

এর আগে শনিবার ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী দল হামাস হঠাৎ করেই ইসরাইলে এ বছরের সবচেয়ে বড় হামলা চালায়। হামাসের এ নজিরবিহীন হামলার পরপরই সংগঠনটির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে ইসরাইল। 

পাশাপাশি গাজায় সর্বাত্মক অবরোধ আরোপ করে তেল আবিব। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি গাজায় খাদ্য ও জ্বালানি প্রবেশে বন্ধ করে দেয় দেশটি।