ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা এক অভূতপূর্ব ও নজিরবিহীন সংকটের মুখে পড়েছে। ফিলিস্তিনি ওয়াটার অথরিটির বরাত দিয়ে জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম 'প্যালেস্টাইন টিভি' জানিয়েছে, বর্তমানে গাজায় প্রতিদিন প্রায় ৫৫ হাজার ঘনমিটার অপরিশোধিত বিষাক্ত বর্জ্য ও পয়োনিষ্কাশন পানি উন্মুক্ত পরিবেশে মিশে যাচ্ছে।
প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, প্রতিদিন এই বর্জ্যের মধ্যে প্রায় ৪০ হাজার ঘনমিটার অপরিশোধিত অবস্থায় সরাসরি ভূমধ্যসাগরে পতিত হচ্ছে। বাকি ১৫ হাজার ঘনমিটার বর্জ্য ক্ষতিগ্রস্ত ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক এবং ভূগর্ভস্থ নালাগুলোর মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের পরিবেশ ও ভূগর্ভস্থ সুপেয় পানির উৎসগুলোকে মারাত্মকভাবে দূষিত করছে।
সংকটের গভীরতা তুলে ধরে কর্তৃপক্ষ জানায়, গাজার প্রধান পাঁচটি বর্জ্য শোধনাগারের (ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) সবগুলোই পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। যুদ্ধের আগে চালু থাকা প্রায় ৭৪টি পাম্পিং স্টেশনের মধ্যে বর্তমানে মাত্র ১৮টি কোনোমতে আংশিকভাবে সচল রয়েছে। এর ফলে যুদ্ধপূর্ব সময়ে যেখানে গাজার ৮৫ শতাংশের বেশি মানুষ সুসংগঠিত ড্রেনেজ সেবার আওতায় ছিল, তা বর্তমানে মাত্র ৪৫ শতাংশে নেমে এসেছে।
বর্জ্য শোধন ক্ষমতা দৈনন্দিন ১ লাখ ৮৫ হাজার ঘনমিটার থেকে একেবারে শূন্যে ঠেকেছে। তবে রেড ক্রসের (আইসিআরসি) সহায়তায় 'শেখ এজলিন' প্ল্যান্টটি পুনরায় চালুর চেষ্টা চলছে। প্রথম ধাপে এটি সচল হলে দৈনিক ২২ হাজার ঘনমিটার বর্জ্য শোধন সম্ভব হবে, যা পরবর্তীতে ৬৫ হাজার ঘনমিটারে উন্নীত করা যেতে পারে।
ফিলিস্তিনি ওয়াটার অথরিটি চরম সতর্কবার্তা জারি করে জানিয়েছে, এই বিপর্যয় নিরসনে অনতিবিলম্বে জ্বালানি, পাম্প, জেনারেটর, খুচরা যন্ত্রাংশ এবং ভারী সরঞ্জাম প্রয়োজন। অপরিশোধিত মানববর্জ্যের অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার গাজায় প্রাণঘাতী রোগব্যাধি ছড়িয়ে মারাত্মক জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি ও সামুদ্রিক পরিবেশের স্থায়ী ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
১১ দিনে ইরানে ঘরে এলো এক বিলিয়ন ডলারের বেশি!
প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথকে বরখাস্তের দাবি মার্কিন সেনেটরের