মিশর-গাজা সীমান্তের রাফা ক্রসিংয়ে একদিকে জড়ো হয়েছে শিশু-নারীসহ হাজার হাজার ফিলিস্তিনি। অন্যদিকে জর্ডান এবং তুরস্কের পাঠানো মানবিক সহায়তা নিয়ে অপেক্ষা করছে সারি সারি ট্রাক। কিন্তু এখন পর্যন্ত খুলে দেয়া হয়নি এ সীমান্ত।
এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন জানিয়েছিলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে রাফা ক্রসিং সাময়িকভাবে খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। তবে সোমবার এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন ইসরাইলের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী।
ইসরাইলের জ্বালানি মন্ত্রী কাটজ এক্সে (আগের টুইটার) বলেন, মিশর-গাজা সীমান্তের রাফা ক্রসিং সাময়িকভাবে খুলে দেয়া এবং গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আমি তার তীব্র বিরোধিতা করছি।
সংস্কৃতিমন্ত্রী মিকি জোহার বলছেন, অবরুদ্ধ গাজায় কোনো মানবিক সহায়তা প্রবেশ করতে দেয়া হবে না।
এদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক এক্স পোস্টে জানিয়েছে, ‘যুদ্ধবিরতির বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি।’
ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিচার্ড হেচট বিবিসিকে জানান, কোনো যুদ্ধবিরতি সম্পর্কে তিনি অবগত নন।
তিনি বলেন, আমি এই সমস্ত প্রতিবেদন (রয়টার্সের) দেখছি। তবে এ বিষয়ে আমি অবগত নই।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জর্ডান এবং তুরস্কের পাঠানো মানবিক সহায়তা নিয়ে রাফা ক্রসিংয়ে অপেক্ষা করছে শত শত ট্রাক। কিন্তু সীমান্ত অতিক্রম করে গাজায় প্রবেশের জন্য ট্রাকগুলোকে এখনও কোনো ছাড়পত্র দেয়া হয়নি। ফলে অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার ত্রাণ কার্যক্রম।
এর আগে সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানায়, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে মিশর-গাজা সীমান্তের রাফা ক্রসিং সাময়িকভাবে খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।
তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
গেলো এক সপ্তাহ ধরে গাজায় অবরুদ্ধ রয়েছে ২০ লাখের বেশি মানুষ। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি গাজায় খাবার, ওষুধ, গ্যাস এবং পানি সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে ইসরাইল।
জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, গাজায় দ্রুত ত্রাণ সহায়তা চালু না করলে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে শিশু-নারীসহ লাখ লাখ বাসিন্দা।