ইসরাইলের অব্যাহত বিমান হামলায় অবরুদ্ধ গাজার ‘কোথাও নিরাপত্তা নেই’ উল্লেখ করে ওই অঞ্চলে দ্রুত ‘মানবিক করিডোর এবং যুদ্ধবিরতির’ আহবান জানিয়েছে জাতিসংঘ। একই কথা বলছেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) নেতারা।
গেলো ৭ অক্টোবর ইসরাইলি বিমান হামলা শুরুর পর থেকে ২৪ লাখ গাজাবাসীর জন্য মাত্র ৮৪ ট্রাক খাদ্য, পানি এবং ওষুধ এ উপত্যকায় প্রবেশ করেছে। এসব সাহায্যকে অত্যন্ত অপর্যাপ্ত বলছে জাতিসংঘ। অথচ এ সংঘাত শুরুর আগে জাতিসংঘের মতে, প্রতিদিন প্রায় ৫০০টি ট্রাক গাজায় প্রবেশ করতো।
এদিকে গাজায় খাবার, পানি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে ইসরাইল। এ কারণে গাজার ৩৫টি হাসপাতালের মধ্যে ১২টি বন্ধ হয়ে গেছে।
জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক ত্রাণ ও কর্মসংস্থান সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ) ‘উল্লেখযোগ্যভাবে তার কার্যক্রম কমাতে’ শুরু করেছে।
ইউএনআরডব্লিউএ এর কমিশনার জেনারেল ফিলিপ লাজারিনি বলেছেন, জ্বালানি ছাড়া, কোনো মানবিক প্রতিক্রিয়া হবে না, অভাবগ্রস্ত লোকেদের কাছে কোনো সাহায্য পৌঁছনো যাবে না। হাসপাতালের জন্য কোনো বিদ্যুৎ নেই, বিশুদ্ধ পানির সুবিধা নেই এবং রুটির প্রাপ্যতা নেই।
ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) নেতারা হামাসের বিরুদ্ধে ইসরাইলের যুদ্ধে ‘মানবিক করিডোর এবং যুদ্ধবিরতি’ দাবি করে অবরুদ্ধ গাজায় আটকে থাকা বেসামরিক লোকদের জন্য ত্রাণসামগ্রী প্রবেশের আহবান জানিয়েছেন।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ইইউ নেতারা এ আহবান জানান।
এর আগে হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরাইলের হামলায় গাজায় এখন পর্যন্ত সাত হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। যাদের বেশিরভাগই শিশু ও বেসামরিক লোক।
অন্যদিকে হামাসের সশস্ত্র শাখা বৃহস্পতিবার দাবি করেছে, ইসরাইলি বোমা হামলায় গাজায় ‘প্রায় ৫০ ইসরাইলি জিম্মি’ নিহত হয়েছেণ। ইসরাইল হামলা বন্ধ না করলে এবং গাজায় ত্রাণ সহায়তা প্রবেশে বাধা দিলে তারা জিম্মিদের মুক্তির বিষয়ে আলোচনায় বসবে না।