ইসরাইলি সেনা গাজা উপত্যকার আরও ভেতরে ঢুকে পড়েছে। সেখানকার বিধ্বস্ত ভবনগুলোর উপর দিয়ে ট্যাংক ও সাঁজোয়া যানবাহন টহল দেয়ার পাশপাশি হামাস যোদ্ধা ও তাদের ব্যবহৃত টানেলের খোঁজ করছে ইসরাইলের সেনারা। আর হামাসের সশস্ত্র শাখা বলছে, তারা ইসরাইলি ট্যাঙ্কে হামলা করেছে।
আল জাজিরা টেলিভিশন জানিয়েছে, গাজা উপত্যকার উত্তরাংশে ইসরাইলি সেনাদের সঙ্গে হামাস যোদ্ধাদের ব্যাপক গোলাগুলি ও লড়াই চলছে। সেই সঙ্গে গাজার ভেতরে একটি ভবনের ভেতরে ইসরাইলি সেনাদের একটি ছোট দলকে নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু যুদ্ধবিরতির আহবান প্রত্যাখ্যান করার পর অবরুদ্ধ গাজা অঞ্চল জুড়ে বোমা হামলা আরও তীব্র করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। ৭ অক্টোবর থেকে ইসরাইলি হামলায় গাজায় কমপক্ষে আট হাজার ৫২৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। যাদের প্রায় অর্ধেকই শিশু।
গাজা থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক সাফওয়াত কাহলুত জানান, কিছু ইসরাযইলি ট্যাঙ্ক এখন গাজা শহর অভিমুখে হয়েছে। তারা উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া গ্রাম অতিক্রম করেছে এবং এখন গাজা শহরের একটি প্রধান সড়ক আল-নাসর স্ট্রিটে অবস্থান করছে।
তিনি বলেন, প্রত্যক্ষদর্শীরা আমাদের বলেছেন, গাজা শহরের প্রান্তে বা উপকণ্ঠে প্রবেশ করা ইসরাইলি সেনা দলের সঙ্গে হামাস যোদ্ধাদের মধ্যে ব্যাপক গুলি বিনিময় হয়েছে।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী বলেছে, তারা সাম্প্রতিক ঘন্টাগুলোতে গাজা উপত্যকায় ব্যাপক ও বিস্তৃত যুদ্ধ শুরু করেছে। তাদের বাহিনী উত্তর গাজায় হামাসের একটি চৌকিতে আক্রমণ করেছে। সেখানে হামাসের প্রায় ১২ জন যোদ্ধাকে হত্রা করা হয়েছে এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে।
ব্যাপক বিমান হামলা এবং বোমাবর্ষণের ফলে গাজা উপত্যকার উত্তর থেকে দক্ষিণে সংযোগকারী সব ধরনের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে গাজায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া মানবিক কনভয় থেকে মানুষের প্রয়োজনীয় মৌলিক সরবরাহ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ক্রমেই পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে।
আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গাজা শহরে একটি কঠিন সময় বাসতে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। ইসরাইলি ট্যাঙ্ক গাজার পূর্ব দিক থেকে উত্তরাঞ্চলের দুটি প্রধান সড়ক- সালাহ আল-দিন স্ট্রিট এবং আল-রাশেদে পৌঁছাতে চাচ্ছে। এতে করে গাজার উত্তরকে দক্ষিণ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে ইসরাইল।
এদিকে, গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি সেনারা চলমান আগ্রাসনে ১৮ হাজার টনের বেশি বিস্ফোরক ফেলেছে। গাজার সরকারি মিডিয়া সেল থেকে এমন দবি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, উপত্যকার প্রতি কিলোমিটারে এ পর্যন্ত গড়ে ৫০ টন বিস্ফোরক ফেলা হয়েছে। উপত্যকাজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইসরাইলের সেনাবাহিনীর অব্যাহত বোমাবর্ষণের ফলে ১০ হাজার মানুষ শহীদ ও নিখোঁজ হয়েছে। ইসরাইলের এই লাগাতার বোমাবর্ষণ ও হত্যাযজ্ঞকে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা ওআইসি যুদ্ধাপরাধ বলে উল্লেখ করেছে। গাজায় হত্যাযজ্ঞ বন্ধে গোটা বিশ্বজুড়ে বিক্ষোভও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পর তাদের মিত্র কানাডা এবার ইসরাইলের জন্য বিশেষ বাহিনী পাঠিয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই খবরের সত্যতা স্বীকার করে বলেছে, তাদের বিশেষ বাহিনী জরুরি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও দূতাবাসের লোকজনকে সহযোগিতা করতে বর্তমানে ইসরাইলে অবস্থান করছে।
গাজায় ইসরাইলের গণহত্যা চালানোর সময় এই খবর এলো। এর আগে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর 'ডেলটা ফোর্স' সামাজিক মাধ্যমে তাদের ছবি প্রকাশ করে বুঝিয়েছে তারা ইসরাইলে অবস্থান করছে। পরে অবশ্য তারা সেই সব ছবি ইনস্টাগ্রাম থেকে মুছে ফেলে এবং ইসরাইলে নিজেদের উপস্থিতির খবর অস্বীকার করেছে।