পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, সবচেয়ে ঝুঁকিতে শিশুরা

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বাহিনীর অব্যাহত বিমান হামলায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। ইসরাইলি হামলা থেকে বাদ পড়ছে না হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।  

এদিকে পরবর্তী হামলা চালানোর আগেই গাজার আল-কুদস হাসপাতাল খালি করার নির্দেশ দিয়েছে ইসরাইল। সেখানে যেকোনো মুহূর্তে বোমা হামলা চালানোর হুমকি দিচ্ছে তেল আবিব। হাসপাতালে ভর্তি শত শত রোগী ও আহতদের নিয়ে বিপাকে পড়েছে কর্তৃপক্ষ। 

গাজায় এরইমধ্যে সাড়ে ৯ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। আহতের সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে গাজার শিশুরা। নিহতদের অর্ধেকই শিশু। আহত অনেক শিশুই পাচ্ছে না যথাযথ চিকিৎসা।     

অ্যাম্বুলেন্সে ইসরাইলের হামলা। ইমেজ- ফান্স২৪।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গেলো ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি হামলায় এ পর্যন্ত ১৫০ জন প্যারামেডিক নিহত হয়েছেন। 

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ আল-কুদরা এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলছেন, এর ফলে বিভিন্ন হাসপাতালে স্বাস্থ্যকর্মীর সংকট দেখা দিয়েছে। ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। 

শুক্রবার গাজা-মিশর সীমান্তের রাফা ক্রসিং অভিমুখে রওনা হওয়া আহতদের বহনকারী দু'টি কনভয়ে হামলা চালানো হয়েছে। এ নিয়ে মোট ২৭টি অ্যাম্বুলেন্স সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে ইসরাইল। 

কর্তৃপক্ষ বলছে, এখন পর্যন্ত ১০৫টি চিকিৎসা কেন্দ্রে ইচ্ছাকৃতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। যার মধ্যে ১৬টি কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে চিকিৎসকদের। 

অন্যদিকে জ্বালানির অভাবে বা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হওয়ার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে আরও ৩২টি প্রাথমিক পরিচর্যা চিকিৎসা কেন্দ্র । 

এছাড়াও গাজায় ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহে বাধা দিচ্ছে ইসরাইল। রাফা ক্রসিং দিয়ে প্রবেশ করছে খুবই কম সংখ্যক ত্রাণবাহী ট্রাক।  

ইসরাইলি হামলায় আল-কুদস হাসপাতালে ভয় ও আতঙ্ক। ইমেজ- মিডিয়া ওয়ান।

ফিলিস্তিনের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (পিআরসিএস) জানিয়েছে, ইসরাইলি বাহিনীর কাছ থেকে আল-কুদস হাসপাতালটি অবিলম্বে খালি করার জন্য ‘গুরুতর হুমকি’ পেয়েছে তারা। কারণ, যেকোনো মুহূর্তে এ হাসপাতালে বোমা হামলা চালাবে ইসরাইলি বাহিনী। 

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, সেখানে ভর্তি শত শত রোগী ও আহতদের কী হবে এবং পরবর্তীতে তারা কোথায় আশ্রয় নেবে সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব নয়। এতো রোগী নিয়ে অন্য কোথাও যাওয়া অসম্ভব। আল-কুদস হাসপাতাল ও এর আশপাশে গাজার প্রায় ১৪ হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হাসপাতালগুলো ইসরাইলের বর্বর হামলা অব্যাহত থাকলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়বে, যা সরাসরি যুদ্ধাপরাধ।