মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে এখন বিশ্বের প্রধান প্রধান গণমাধ্যমগুলোর শিরোনামে জায়গা করে নিয়েছে, হামাস-ফিলিস্তিন যুদ্ধ। চাপা পড়ে গেছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। আর এনিয়ে তাই অনুযোগ করতে ছাড়েননি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
তিনি বলেনছেন, ফিলিস্তিনের গাজা ভূখণ্ডে চলমান সংঘাত ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে সারা বিশ্বের মনোযোগ সরিয়ে নিয়েছে। তার দাবি, ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে বিশ্বের মনোযোগ সরিয়ে নেওয়াটাও ছিল রাশিয়ার লক্ষ্যগুলোর মধ্যে একটি।
শনিবার কিয়েভে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার একটি লক্ষ্য ছিল ইউক্রেন থেকে বিশ্বের মনোযোগ সরিয়ে দেওয়া। এটা পরিষ্কার যে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে ইউক্রেন থেকে বিশ্বের নজর সরে যাচ্ছে। এতে করে রাশিয়ার বেশি সুবিধা হচ্ছে।
ইউক্রেন সফরে যাওয়া উরসুলা ফন ডের লিয়েনকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া এটাই চাইছিল। তারা চাইছে মনোযোগ দুর্বল হয়ে পড়ুক। তবে আমি আবারও বলছি, সবকিছু আমাদের দখলে আছে। রাশিয়া নতুন করে কোনো এলাকা দখল করতে পারেনি। উল্টো ছোট ছোট গ্রাম পুনরুদ্ধার করছে তাদের সেনারা। তবে উভয়পক্ষ ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছে এবং এখানে নানা জনের নানা মত রয়েছে।
এদিকে ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ অচলাবস্থায় পৌঁছে গেছে বলে দেশটির শীর্ষ সামরিক জেনারেলের সাম্প্রতিক মূল্যায়ন সত্ত্বেও বিষয়টি অস্বীকার করেছেন জেলেনস্কি। রাশিয়ার বিরুদ্ধে দক্ষিণাঞ্চলে ইউক্রেনের পাল্টা আক্রমণ এখন পর্যন্ত খুব সামান্যই অগ্রগতি হয়েছে। এমনকি কিছু মিত্র দেশ ইউক্রেনকে উন্নত অস্ত্র এবং তহবিল দেওয়া অব্যাহত রাখার বিষয়ে অনিচ্ছা প্রকাশ করছে বলে ইঙ্গিতও পাওয়া যাচ্ছে।
ইউক্রেনের প্রধান সামরিক কমান্ডার ভ্যালেরি জালুঝনি এ সপ্তাহে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে এক মূল্যায়নে বলেছেন, যুদ্ধ এখন একটি ‘অচলাবস্থা’ বা ‘স্থির পর্যায়ের’ দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মস্কোর পক্ষে যাবে। কারণ এ পরিস্থিতির সুযোগে তারা ইউক্রেনে তাদের সামরিক শক্তি পুনর্গঠনের সুযোগ পাবে।