গত এক মাসে ইসরাইলের হামলায় গাজা উপত্যকায় ১০ হাজার ২২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়ে এই সময়ে অধিকৃত পশ্চিমতীরে ইসরাইলি হামলায় মারা গেছেন ১৫২ জন।
দীর্ঘদিনের আগ্রাসনের জবাব দিতে গত ৭ অক্টোবর ইসরাইলে নজিরবিহীন হামলা চালায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। এর পর থেকে অবরুদ্ধ গাজায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী।
আল জাজিরা জানিয়েছে, গাজা উপত্যকায় গত এক মাসে নিহতদের মধ্যে এদের মধ্যে চার হাজার ১০৪ শিশু ও দুই হাজার ৬৪১ জন নারী রয়েছে।
এছাড়াও, ইসরাইলি হামলা আহত হয়েছেন ২৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি।
গাজায় প্রতিনিয়তই হামলা জোরদার করছে ইসরাইলি বাহিনী। সোমবার পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হামাসের সাড়ে চারশ’ অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইসরাইলি বাহিনী। স্থল অভিযান চালিয়ে হামাসের নতুন বেশ কয়েকটি সুড়ঙ্গ ধ্বংস করা হয় বলেও দাবি ইসরাইলের।
গাজা উপত্যকাকে দুইভাগে ভাগ বিভক্ত করার দাবি তুলে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী আইডিএফ জানিয়েছে, তাদের সেনারা যেন ট্যাংক নিয়ে গাজার আরও ভেতরে ঢুকতে পারে সেজন্যই হামলার মাত্রা বাড়ানো হয়েছে।
আল জাজিরা জানিয়েছে, রোববার রাতভর গাজায় বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এতে এক রাতেই দুই শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
এদিকে ইসরাইল-হামাস যুদ্ধ শুরুর পর সোমবার তৃতীয়বারের মত সম্পূর্ণরূপে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে গাজা। সেখানে ফোন বা ইন্টারনেট পরিষেবা কোনোটিই কাজ করছে না।
বিবিসি জানিয়েছে, বিভিন্ন ত্রাণ বিতরণ ও মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা গাজায় তাদের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না।
টেলিকম ফার্ম প্যালটেল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে তাদের পরিষেবা সম্পূর্ণরূপে বিঘ্নিত হয়েছে বলে জানিয়েছে। তারা বলেছে, প্রধান রুটগুলি, যেগুলো এর আগে পুনঃসংযোগ দেওয়া হয়েছিল সেগুলো ইসরাইলের দিক থেকে আবারও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে বলে এ বিঘ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
গাজায় জাতিসংঘের যেসব কর্মীরা ফিলিস্তিনিদের সহায়তা তাদের বেশিরভাগের সঙ্গে সংস্থাটি যোগাযোগ করতে পারছে না। ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিও তাদের ত্রাণ কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারার কথা বলেছে।