বন্ধ হয়ে গেলো গাজার বৃহত্তম দুই হাসপাতাল

ইসরাইলি হামলা ও জ্বালানি সংকটে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার বৃহত্তম দুই হাসপাতাল আল-শিফা ও আল-কুদস পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। হাসপাতাল দু'টির ভেতরে আটকা পড়েছে কয়েক হাজার মানুষ। আশপাশের এলাকায় বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল। 

সোমবার জাতিসংঘের বরাতে এসব তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, গাজার দু'টি বৃহত্তম হাসপাতাল আল-শিফা এবং আল-কুদস উভয়ই বন্ধ হয়ে গেছে। ইসরাইলি স্নাইপাররা আল-শিফা হাসপাতালের কাছে কাউকে দেখতে পেলেই তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালাচ্ছে।

এসব হামলায় আল-শিফা হাসপাতালের তিনজন নার্স নিহত হয়েছেন। এছাড়া বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে দুই শিশুসহ মারা গেছেন অন্তত ১২ জন রোগী।  

ইসরাইলি হামলায় আল-কুদস হাসপাতালে ভয় ও আতঙ্ক। ইমেজ- মিডিয়া ওয়ান।

আল-শিফা হাসপাতালে কর্মরত নিউরোসার্জন ডা. নিদাল আবু হাদরাউস জানান, সেখানে থাকা রোগী এবং কর্মীরা ‘বিপর্যয়কর’ পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। বিদ্যুৎ, পানি ও অক্সিজেন না থাকায় হাসপাতাল পুরোপুরি অচল হয়ে গেছে। 

অন্যদিকে জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ায় উত্তর গাজার কামাল আদওয়ান হাসপাতালও বন্ধ হয়ে গেছে। সেখানেও আটকা পড়েছে কয়েক হাজার গাজাবাসী। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুস গাজার হাসপাতালগুলোর ‘ভয়াবহ এবং বিপজ্জনক’ পরিস্থিতির বিষয়ে সতর্ক করে বলেছেন, হাসপাতালে হামলার ঘটনায় অপরিণত অবস্থায় জন্ম নেয়া শিশুসহ বহু রোগী ‘দুঃখজনকভাবে’ মারা যাচ্ছে।

সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গাজায় দ্রুত যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা না হলে এসব হাসপাতালে থাকা শিশু ও রোগীরা চরম পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে। বাড়বে হতাহতের সংখ্যা।  

এর আগে গত ৭ অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মদদে গাজায় বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল। হামলা থেকে বাদ যাচ্ছে না কোনো অবকাঠামো। স্কুল, মসজিদ, গির্জা, বাড়ি, এমনকি হাসপাতালেও হামলা চালাচ্ছে ইসরাইল। 

ইসরাইলি হামলায় গাজায় নিহতের সংখ্যা এরইমধ্যে ১১ হাজার ছাড়িয়েছে। যার অর্ধেকের বেশি শিশু। আহত হয়েছে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ।