দ্বিতীয় দফায় আরও ৩৯ ফিলিস্তিনির মুক্তি

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় চারদিনের যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় দিনে দ্বিতীয় দফায় ১৩ ইসরাইলি ও চার থাই নাগরিকসহ মোট ১৭ বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে হামাস সরকার। বিনিময়ে ইসরাইলের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছে আরও ৩৯ ফিলিস্তিনি বন্দি।

শনিবার হামাসের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

তবে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করায় ইসরাইলি বন্দিদের মুক্তি কয়েক ঘণ্টা পিছিয়ে দেয় হামাস। শনিবার নির্ধারিত সময় সন্ধ্যার দিকে হামাসের সামরিক বাহিনী ইজ্জাদ্দিন আল-কাসসাম ব্রিগেড ঘোষণা করে, ইসরাইল যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করে নির্ধারিত সংখ্যক ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় ঢুকতে দিচ্ছে না। এছাড়া উত্তর গাজায়ও অবাধে ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশে দখলদার সেনারা বাধা দিচ্ছে।

ইরানের পার্সটুডে জানায়, এ পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইওয়াভ গ্যালান্টকে টেলিফোন করে গাজায় প্রবেশ করতে যাওয়া ত্রাণবাহী ট্রাকের সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়ার আহবান জানান।

শেষ পর্যন্ত শনিবার গাজার স্থানীয় সময় রাত ১১টার দিকে ১৩ ইসরাইলি বন্দি ও চার থাই নাগরিককে রেডক্রসের হাতে তুলে দেয় হামাস। 

এদিকে ইসরাইলের কারাগার থেকে মুক্তি পায় ৩৯ ফিলিস্তিনি বন্দি। স্থানীয় সময় রাত ১টার পর ফিলিস্তিনি বন্দিরা একটি যাত্রীবাহী বাসে করে নিজ ভূখণ্ডে ফিরে ফেরেন। 

চারদিনের যুদ্ধবিরতিতে ইসরাইলের কারাগারে বছরের পর বছর ধরে বন্দি থাকা মোট ১৫০ ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেবে ইসরাইল। আর বিনিময়ে গাজায় আটক ৫০ ইসরাইলি বন্দিকে মুক্তি দেবে হামাস। 

এছাড়াও চুক্তি অনুযায়ী যুদ্ধবিরতির চারদিনের প্রতিদিনই ওষুধ, খাবার, পানি ও অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী নিয়ে মিশরের রাফা ক্রসিং দিয়ে গাজা উপত্যকায় প্রবেশ করবে ২০০ ট্রাক। 

এর আগে শুক্রবার কাতারের মধ্যস্থতায় শুক্রবার যুদ্ধবিরতির প্রথমদিন ১৩ ইসরাইলি নাগরিককে মুক্তি দিয়েছে হামাস। এছাড়া ১০ থাই নাগরিক এবং ফিলিপাইনের এক নাগরিককেও সেদিন মুক্তি দেয়া হয়। বিনিময়ে ফিলিস্তনের ৩৯ নারী ও শিশুকে মুক্তি দেয় তেল আবিব। 

গেলো ৭ অক্টোবর ইসরাইলে আকস্মিক অভিযান চালিয়ে পুরো বিশ্বকে স্তম্ভিত করে দেয় হামাস। এ সময় ইসরাইলি সেনাসহ ২০০ বা তারও বেশি লোককে বন্দি করে গাজায় নিয়ে যান হামাসের যোদ্ধারা।