দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে আগ্রাসন চালিয়ে গাজায় ১৭ হাজার ৭০০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরাইল। এ পরিস্থিতিতে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার জনগণের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিশ্বব্যাপী অবরোধ পালনের আহবান জানিয়েছে ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ সংগঠনগুলো।
জর্ডান টাইমস ও পার্সটুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজার হামাস সরকার ও ইসলামি জিহাদসহ সবগুলো প্রতিরোধ সংগঠনের জোট ‘ন্যাশনাল এন্ড ইসলামিক ফোর্স’ এক বিবৃতিতে অপরোধ পালনের এ আহবান জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গাজাবাসীর ওপর চলমান অপরাধযজ্ঞের প্রতিবাদে আপনারা সোমবার (১১ ডিসেম্বর) সারাবিশ্বে ধর্মঘট পালন করুন।
দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে গাজার বেসামরিক মানুষের ওপর যখন ইসরাইলের অবিরাম আগ্রাসন ও গণহত্যা চলছে তখন এ আহবান জানানো হলো।
ন্যাশনাল এন্ড ইসলামিক ফোর্স বলছে, আমরা বিশ্বকে এই অবরোধে শরিক হওয়ার আহবান জানাচ্ছি। বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে গাজাবাসীর সমর্থনে যুদ্ধবিরতির দাবিতে যে বিক্ষোভ হচ্ছে তার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা এ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।
ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ সংগঠনগুলোর আশা, এই অবরোধের ফলে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর পরিবহণ খাত, বিমান চলাচল, ব্যবসা-বাণিজ্য, ব্যাংকিং লেনদেন, বন্দরগুলোর কার্যক্রম এবং স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্লাস পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।
ফিলিস্তিনি জনগণ একটি স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্রের অধিকারী না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সম্ভাব্য সকল পন্থায় সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রতিরোধ সংগঠনগুলোর জোটটি।
এর আগে গেলো ৭ অক্টোবর ইসরাইলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। এর পরপরই গাজায় হামলা শুরু করে ইসরাইল। দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে নিরবিচ্ছিন্নভাবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে নেতানিয়াহু প্রশাসন। ইসরাইলি হামলা ও অবরোধে দশ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। পানি, খাদ্য এবং অন্যান্য মৌলিক সরবরাহ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে গাজার বাসিন্দারা।