এবার হুতিদের টার্গেট ইসরাইলমুখী সব জাহাজ

ইসরাইল যখন গাজা উপত্যকা জুড়ে নিরীহ ফিলিস্তিনিদের হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞে ব্যস্ত, তখন অন্যদিকে তাদের কাছে বড় আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে হুতি বিদ্রোহী। ইয়েমেনের এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি একের পর এক আঘাতে তছনছ করে দিচ্ছে ইসরাইলি জাহাজ। শুধু কি তাই, লোহিত সাগরে সিনেমার দৃশ্যকে হার মানানো দুঃসাহসিক অভিযান চালিয়ে নিজেদের দখলে নিচ্ছে ইসরাইলি জাহাজও। 

ফিলিস্তিনিদের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানো হুতি বিদ্রোহীদের সাহসী অবস্থানে শুধু ইসরাইলই নয়, চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে তাদের মিত্রদের মধ্যেও। এমন যখন পরিস্থিতি, তখন আরও নাটকীয় ঘোষণা দিলো হুতি। আবারও ইসরাইলগামী সব জাহাজে হামলার হুমকি দিলো হামাসের পরম মিত্র এই বাহিনী। 

একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোকে ইসরাইলি বন্দরে কর্মকাণ্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে সতর্কও করেছে গোষ্ঠীটি। ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা বলেছে, গাজা উপত্যকায় খাদ্য ও ওষুধ ঢুকতে না দিলে ইসরাইলি বন্দরমুখী যে কোনো জাহাজে হামলা করে তছনছ করবে তারা।

শনিবার হুতিদের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, যদি গাজা তার প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার ও ওষুধ না পায়, তাহলে লোহিত সাগর দিয়ে ইসরাইলি বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া সব জাহাজ, তা সে দেশেরই হোক না, আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর হামলার লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।

সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে হুতি বিদ্রোহীরা বলেছে, হামাস শাসিত গাজায় ইসরাইল যদি মানবিক সহায়তা প্রবেশ করতে না দেয়, তবে তারাও দেশটিতে জাহাজ যেতে দেবে না।

ফিলিস্তিন-ইসরাইল যুদ্ধের শুরু থেকেই প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সমর্থনে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। আরবের সুন্নি রাষ্ট্রগুলোর মতো শুধু কথায় নয় বরং সরাসরি সামরিক পদক্ষেপও নিতে শুরু করেছে ফিলিস্তিনপন্থি এই গোষ্ঠীটি।

গেলো ৭ অক্টোবর ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাত শুরুর পর থেকে হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগর ও আশপাশের নৌ-সীমায় বেশ কয়েকটি দুঃসাহসিক হামলা চালিয়েছে। এসব হামলা নিয়ে তীব্র উত্তেজনা চলার মধ্যেই নতুন হুমকি দিলো ইয়েমেনের সশস্ত্র এই গোষ্ঠীটি। 

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হুথিরা লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদাব প্রণালীতে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বেশ কয়েকটি জাহাজে হামলা করে। এই নৌপথ দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে পৃথিবীর বেশিরভাগ তেল রপ্তানি হয়। এছাড়া, হুথিরা ইসরাইলি ভূখণ্ডে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তবে শনিবার তারা যে হুমকি দিয়েছে, তাতে লক্ষ্যবস্তুর আওতা বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে হুথি বিদ্রোহীরা ‘সাহসী ও বলিষ্ঠ’ সিদ্ধান্ত নিয়েছে উল্লেখ করে একে স্বাগত জানিয়েছে অপ্রতিরোধ্য যোদ্ধা গোষ্ঠী হামাস। এ ঘোষণার পর ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জাচি হ্যানেবি বলেছেন, তার দেশ ‘নৌপথ’ অবরুদ্ধ হতে দেবে না। এজন্য প্রধান মিত্র আমেরিকা ও পশ্চিমাদের পাশে চায় তেল আবিব।

রোববার ফরাসি সামরিক বাহিনী বলেছে, শনিবার রাতে লোহিত সাগর এলাকায় তাদের একটি যুদ্ধ জাহাজ দুটি ড্রোন ধ্বংস করেছে। ইয়েমেন উপকূল থেকে ড্রোনগুলো ওড়ানো হয়েছিল এবং এগুলো জাহাজটির দিকেই যাচ্ছিল। গত সপ্তাহে হুতি বিদ্রোহীরা ইয়েমেন উপকূলে দুটি জাহাজে হামলা চালায়। এর মধ্যে বাহামার পতাকাবাহী একটি জাহাজও ছিল। তাদের দাবি, জাহাজগুলো ইসরাইলি মালিকানাধীন।