ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা ও ইরান-রাশিয়া সম্পর্ক নিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে কথা বলেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এসময় জাতিসংঘে মস্কোর দূতদের নেয়া 'ইসরাইল-বিরোধী অবস্থান' নিয়ে অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নেতানিয়াহু।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, রোববার ৫০ মিনিটের বেশি সময় ধরে ফোনে কথা বলেছেন দুই রাষ্ট্রপ্রধান।
গাজায় যুদ্ধবিরতি এবং ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রস্তাবকে সমর্থন করেছে রাশিয়া, শুক্রবার ওই প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ফিলিস্তিন ইস্যুতে রাশিয়ার এমন অবস্থান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন নেতানিয়াহু।
এদিন ইরান-রাশিয়া সম্পর্ক নিয়েও পুতিনকে তার অসম্মতির কথা জানান ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী।
ক্রেমলিন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর সাথে ফোনালাপে ভ্লাদিমির পুতিন সব ধরনের সন্ত্রাসবাদকে প্রত্যাখ্যান ও নিন্দা করার নীতিগত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
রাশিয়া বেসামরিক নাগরিকদের দুর্ভোগ কমাতে এবং সংঘাত কমাতে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
ফোনে রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, ইসরাইল-হামাস যুদ্ধের ইতি টানতে রাশিয়া সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছে।
এসময় গাজা ইস্যুতে পুতিন বলেন, সন্ত্রাসী হুমকি মোকাবেলার নামে বেসামরিক জনগণের ওপর যেকোনো ধরনের আগ্রাসন রাশিয়া সমর্থন করে না।
গাজায় গণহত্যা শুরুর পর থেকেই ইসরাইলের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছে রাশিয়া। এর আগে ইসরাইলি বাহিনীকে হিটলারের নাৎসিদের সাথেও তুলনা করেছেন পুতিন। অন্যদিকে ইরান এবং গাজার হামাস সরকারের সাথে নতুন করে সম্পর্ক জোরদার করেছে মস্কো। এর ফলে কূটনৈতিক চাপে পড়েছে ইসরাইল।
এর আগে গেলো ৭ অক্টোবর ইসরাইলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। এর পরপরই গাজায় হামলা শুরু করে ইসরাইল। দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে নিরবিচ্ছিন্নভাবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে নেতানিয়াহু প্রশাসন। গাজায় ১৭ হাজার ৭০০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরাইল। হামলা ও অবরোধে দশ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। পানি, খাদ্য এবং অন্যান্য মৌলিক সরবরাহ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে গাজার বাসিন্দারা।